বিনোদন ঝলক
তারকা

টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলির আসল টার্গেট ছিলেন সালমান খান: অষ্টম গ্রেপ্তার, পিস্তল এলো ট্রেনে

বিনোদন ঝলক ডেস্ক২৩ অক্টোবর ২০২৬3 মিনিটে পড়ুন
সালমান খান
সালমান খান। পুলিশের দাবি, টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলির ঘটনায় আসল টার্গেট ছিলেন তিনি। (ছবি: Bollywood Hungama, CC BY 3.0)

মুম্বাইয়ের জুহুতে টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলির ঘটনায় অষ্টম অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার হরিয়ানার সোনিপত থেকে অঙ্কিত ওরফে রাজেশ খাটককে (১৮) গ্রেপ্তার করা হয়। ট্রানজিট রিমান্ডে তাকে মুম্বাই নেওয়া হচ্ছে। পুলিশের দাবি, এই হামলার আসল লক্ষ্য ছিলেন সালমান খান। বান্দ্রার গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টে কড়া নিরাপত্তা দেখে হামলাকারীরা টার্গেট বদলে সহজ লক্ষ্য হিসেবে টাইগার শ্রফকে বেছে নেয়।

তদন্তে বেরিয়ে এসেছে অস্ত্র সরবরাহের চাঞ্চল্যকর চেইন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কুণাল নামের একজনের নির্দেশে রাধা ও ববিতা নামের দুজন অমৃতসর থেকে ট্রেনে পিস্তল ও ২০ রাউন্ড কার্তুজ মুম্বাই নিয়ে আসেন। রাধার ব্যাগে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল অস্ত্রগুলো। গ্রেপ্তারের এই ধারা থেকে স্পষ্ট, ঘটনাটি ছিল সুপরিকল্পিত ও সংগঠিত চক্রের কাজ, কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়।

পেছনে ফিরে দেখা যাক টাইমলাইন। ১৮ অক্টোবর মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এরপর তদন্তে একে একে গ্রেপ্তার হন অভিযুক্তরা, যাদের মধ্যে তিনজনকে রাজস্থানের কোটা থেকে ধরা হয়। ঘটনার পর লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্য দাবি করা অনিল পণ্ডিতের (বর্তমানে বিদেশে অবস্থানরত) একটি ভিডিও সামনে আসে, যেখানে সালমান খানের সঙ্গে কাজ করলেই হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পুলিশের নতুন দাবি সেই হুমকির সূত্রেই গাঁথা: গ্যাংয়ের আসল নিশানা ছিলেন সালমান।

সালমান খানের নিরাপত্তা এরই মধ্যে আরও জোরদার করা হয়েছে। তার বান্দ্রার বাসভবনের চারপাশে কড়া পাহারা বসানো হয়েছে, মোতায়েন করা হয়েছে কমান্ডো। বলিউডে এই মুহূর্তে আতঙ্কের পরিবেশ, কারণ একের পর এক ঘটনায় তারকাদের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। টাইগারের বাবা জ্যাকি শ্রফ ঘটনার পর প্রথমবার প্রকাশ্যে এসে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন, আর সুরকার অনুপ জলোটা সালমানের কাছে ক্ষমা চেয়ে আবেদন জানানোর মতো ঘটনাও এই সাগার অংশ হয়ে আছে।

কেন এই ঘটনা এত গুরুত্বপূর্ণ? প্রথমত, এটি বলিউডের তারকা-নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সালমান খান দীর্ঘদিন ধরেই বিষ্ণোই গ্যাংয়ের হুমকির মুখে, যার শিকড় ১৯৯৮ সালের কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলায়। দ্বিতীয়ত, টার্গেট বদলের এই দাবি প্রমাণ করে, গ্যাংটি সুযোগ বুঝে যেকোনো তারকাকেই নিশানা করতে পারে। ফলে শুধু সালমান নন, গোটা ইন্ডাস্ট্রির নিরাপত্তা ব্যবস্থাই এখন পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে।

এই ঘটনার পেছনে যে নামটি বারবার আসছে, তা লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং। গ্যাংয়ের সদস্য দাবি করা অনিল পণ্ডিত বিদেশে বসে একটি ভিডিও বার্তায় হুমকি দেন, সালমান খানের সঙ্গে যারা কাজ করবেন তাদের হত্যা করা হবে। গ্যাংটির ক্ষোভের শিকড় ১৯৯৮ সালের কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলায়, যে ঘটনার পর থেকেই বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের একটি অংশ সালমানের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ। সেই পুরনো ক্ষোভই এখন সংগঠিত অপরাধের রূপ নিয়েছে বলে তদন্তকারীদের ধারণা।

বলিউডে এখন আতঙ্কের আবহ। ঘটনার পর টাইগারের বাবা, প্রবীণ অভিনেতা জ্যাকি শ্রফ প্রথমবার প্রকাশ্যে এসে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সুরকার অনুপ জলোটা তো সালমান খানের কাছে ক্ষমা চেয়ে আবেদন জানানোর মতো মন্তব্যও করেন, যা নিয়ে তুমুল আলোচনা হয়। শুধু সালমান বা টাইগার নন, অন্য তারকাদের নিরাপত্তাও এখন প্রশ্নের মুখে। রণবীর কাপুরের বাড়ির চারপাশে নজরদারি জোরদারের খবরও এসেছে এই সাগার মধ্যেই।

তদন্তের জাল কতটা বিস্তৃত, তা বোঝা যায় গ্রেপ্তারের ধারাবাহিকতায়। প্রথমে রাজস্থানের কোটা থেকে তিনজন ধরা পড়েন, এবার হরিয়ানার সোনিপত থেকে অঙ্কিত। মাঝে বেরিয়ে এসেছে অমৃতসর থেকে ট্রেনে অস্ত্র আনার চেইন। পুলিশের সামনে এখন মূল প্রশ্ন: বিদেশে থাকা অনিল পণ্ডিতের সঙ্গে দেশের এই নেটওয়ার্কের যোগাযোগ ঠিক কীভাবে হতো, আর অর্থের জোগান আসত কোথা থেকে। অঙ্কিতকে মুম্বাই এনে জিজ্ঞাসাবাদে এই সূত্রগুলো খোলার আশা করছেন তদন্তকারীরা।

এরপর কী? অঙ্কিতকে মুম্বাই এনে জিজ্ঞাসাবাদে গ্যাংয়ের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়ার আশা করছে পুলিশ। রাধা, ববিতা ও কুণালের ভূমিকা, অস্ত্রের উৎস এবং বিদেশে থাকা অনিল পণ্ডিতের সঙ্গে যোগাযোগের সূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে আদালতে মামলার প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। বলিউড এখন তাকিয়ে আছে, এই তদন্ত কোথায় গিয়ে থামে এবং তারকাদের নিরাপত্তায় স্থায়ী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার