আফরান নিশোর ভক্তরা অনেক দিন ধরে একটা প্রশ্নই করছেন, সুড়ঙ্গ ২ কবে আসবে। ঘোষণা ছিল ডিসেম্বরে মুক্তির, কিন্তু এখনকার খবরটা সেই প্রত্যাশায় বড় ধাক্কা দিয়েছে। প্রথম আলোর ১৪ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিসেম্বরে মুক্তির ঘোষণা থাকলেও সুড়ঙ্গ ২ সিনেমার শুটিংই শুরু হয়নি। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার শাকিল নিজেই জানিয়েছেন, কিছু সমস্যার কারণে সিনেমাটির কাজ পিছিয়েছে এবং সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরের শুরুতে শুটিং শুরু করবেন তাঁরা। অর্থাৎ ডিসেম্বরে মুক্তির পুরোনো ঘোষণাটি এখন আর ধরে রাখা যাচ্ছে না।
এই সিক্যুয়েল ঘিরে আগ্রহের কারণটা পুরোনো। ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া সুড়ঙ্গ পরিচালনা করেন রায়হান রাফী, প্রযোজনা করে আলফা আই ও চরকি। এতে মাসুদ চরিত্রে অভিনয় করে খ্যাতি পান আফরান নিশো, এটি ছিল তাঁর বড় পর্দায় অভিষেক। ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিনেমাটি বাণিজ্যিক ও সমালোচনামূলক দুই দিক থেকেই সাফল্য পায় এবং নিশোর মাসুদ চরিত্রটি দর্শকের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়। প্রথম ছবিতে নিশো ছাড়াও ছিলেন তমা মির্জা, শহীদুজ্জামান সেলিম ও মোস্তফা মনওয়ার।
সিক্যুয়েলের ঘোষণা এসেছিল পরিচালক রায়হান রাফীর ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে। ডেইলি স্টার জানিয়েছে, রাফী আনুষ্ঠানিকভাবে সুড়ঙ্গ ২ ঘোষণা করে আফরান নিশোর মাসুদ হিসেবে ফেরার কথা নিশ্চিত করেন। তিনি লেখেন, অফিশিয়াল অ্যানাউন্সমেন্ট, সুড়ঙ্গের মাসুদ ফিরছে। ঘোষণায় বলা হয়, নিশো ও রাফী জুটি আবার এক হচ্ছে এবং নতুন অধ্যায়টি হবে আরো বড়, আরো সাহসী ও আরো রোমাঞ্চকর। সিনেমাটি প্রযোজনা করছে এসভিএফ আলফা আই এন্টারটেইনমেন্ট এবং এটি রায়হান ফিল্ম ইউনিভার্সের বড় সম্প্রসারণ হিসেবে তৈরি হচ্ছে।
এরপর ২০২৫ সালে মুক্তি পাওয়া রায়হান রাফীর আরেক সিনেমা তাণ্ডবে মাসুদ চরিত্রটিকে দেখা যায়। ডেইলি স্টারের ভাষায়, এর পর থেকেই সিক্যুয়েল নিয়ে আলোচনা আবার জোরালো হয়। দর্শকের মনে প্রশ্ন জাগে, মাসুদ কি শুধু অতিথি চরিত্রেই ফিরলেন, নাকি তাঁর নিজের গল্পটাই এবার বড় পর্দায় পুরোদমে ফিরছে। ঘোষণার পর সেই প্রশ্নের উত্তর মেলে, মাসুদের গল্পই ফিরছে, তবে কবে, সেটাই এখন অনিশ্চিত।
মাঝখানে গুজবও কম ছড়ায়নি। একসময় খবর ছড়ায়, সামনের ঈদুল আজহায় সুড়ঙ্গ ২ আসছে। প্রথম আলোকে ২০২৬ সালের এপ্রিলে প্রযোজক শাহরিয়ার শাকিল বলেন, সিনেমাটি ঈদুল আজহায় মুক্তি পাচ্ছে না। একই প্রতিবেদনে তিনি আরো জানান, মাসুমা নাবিলা ও নাজিফা তুষি এই সিনেমায় অভিনয় করবেন বলে যে খবর ছড়িয়েছে, তা সঠিক নয়। তাঁদের সঙ্গে সিনেমা নিয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি। কারা থাকছেন, সেটা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে বলে জানান তিনি। অর্থাৎ কাস্ট নিয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি, আর গুজবের ভিত্তিতে কোনো নাম ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
সবচেয়ে নতুন আপডেটটি এসেছে প্রথম আলোর বছরের শেষ দিকের সিনেমাগুলো নিয়ে ১৪ অক্টোবরের প্রতিবেদনে। সেখানে শাকিল জানান, ডিসেম্বরের মধ্যে মুক্তির তারিখটা নিশ্চিত করতে পারছেন না তিনি, অন্তত খলনায়কের ক্ষেত্রে। আর সুড়ঙ্গ ২ প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য আরো স্পষ্ট, শুটিংই শুরু হয়নি। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরের শুরুতে শুটিং শুরু হবে। এই বক্তব্য থেকে পরিষ্কার, ডিসেম্বরে মুক্তি পেতে হলে যে শুটিং, সম্পাদনা আর প্রচারের ধাপগুলো পেরোতে হয়, তার কোনোটিই এখনো শুরু হয়নি। তাই ডিসেম্বরকে আর মুক্তির মাস ধরে রাখা যাচ্ছে না।
একই প্রতিবেদনে বছরের শেষ দিকের আরো কয়েকটি আলোচিত সিনেমার হালও উঠে এসেছে, যা এই অনিশ্চয়তার চিত্রটা আরো পরিষ্কার করে। রায়হান রাফী পরিচালিত আন্ধার প্রথমে এ বছরের দুর্গাপূজার ছুটিতে আসার কথা ছিল, কিন্তু পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ বাকি থাকায় তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হয়। রাফী জানিয়েছেন, ভিএফএক্সের মান নিয়ে কোনো আপস করতে চান না তিনি, তাই অক্টোবর কিংবা ডিসেম্বর নয়, আগামী বছরের ২৬ মার্চ, স্বাধীনতা দিবসে প্রেক্ষাগৃহে আন্ধার মুক্তি পাবে। ভিকি জাহেদ পরিচালিত খলনায়কের ঢাকা ও কলকাতায় শুটিং শেষ হয়েছে এবং এখন সম্পাদনা ও পোস্ট প্রোডাকশন চলছে, কিন্তু তারও মুক্তির তারিখ এখনো নিশ্চিত নয়।
তাহলে দর্শকের এখন কী করা উচিত। প্রথমত, সুড়ঙ্গ ২ এর কোনো নির্দিষ্ট মুক্তির তারিখ এখনো ঘোষিত হয়নি, তাই ডিসেম্বরের কোনো নির্দিষ্ট দিনকে মুক্তির দিন ধরে পরিকল্পনা করা ঠিক হবে না। দ্বিতীয়ত, আসল সংকেত হবে শুটিং শুরুর ঘোষণা। শুটিং শুরু হলে তারপর টিজার, কাস্ট ঘোষণা আর মুক্তির তারিখের ধারাবাহিক ঘোষণা আসবে। তৃতীয়ত, মাসুদের গল্প যে ফিরছে, সেটা নিশ্চিত, কারণ পরিচালক ও প্রযোজক দুই পক্ষই সিক্যুয়েল বানানোর কথা বলেছেন। শুধু সময়টা পিছিয়ে গেছে। এই অপেক্ষার মধ্যে প্রথম ছবিটি আবার দেখে নেওয়া কিংবা তাণ্ডবে মাসুদের উপস্থিতি মনে করে রাখা ছাড়া আপাতত আর কোনো নিশ্চিত খবর নেই। আর কোনো নতুন ঘোষণা এলে সেটাই হবে পরের বড় আপডেট।
