বিনোদন ঝলক
তারকা

৯৯৯ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করলেন সুজাত শিমুল: সংখ্যাটির পেছনে তিনটি কারণ

বিনোদন ঝলক ডেস্ক২৬ অক্টোবর ২০২৬3 মিনিটে পড়ুন
সুজাত শিমুলের বিয়ে নিয়ে নিজের তৈরি গ্রাফিক
৯৯৯ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করলেন সুজাত শিমুল (ছবি: বিনোদন ঝলক)

মঞ্চ ও টেলিভিশন নাটকের অভিনয়শিল্পী সুজাত শিমুল বিয়ে করেছেন। তার স্ত্রী জান্নাতুন নেছা থিয়েটার ও আবৃত্তিকর্মী। গত শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মিরপুরের একটি রেস্তোরাঁয় দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। বিয়ের খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে একটি সংখ্যা নিয়ে, আর সেই সংখ্যাটি হলো ৯৯৯। এই দম্পতির বিয়ের দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ৯৯৯ টাকা।

দেনমোহর বিয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সাধারণভাবে বড় অঙ্কের দেনমোহর নিয়ে আলোচনা হয় বেশি। সেখানে ৯৯৯ টাকার মতো ছোট ও প্রতীকী অঙ্ক চোখে পড়বেই। তাই অনেকের মনে প্রশ্ন উঠেছে, কেন এই সংখ্যাটি বেছে নিলেন সুজাত শিমুল ও জান্নাতুন নেছা। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর পেছনে রয়েছে তাদের নিজস্ব ভাবনা, জীবনের পূর্ণতা ও অপূর্ণতা নিয়ে দর্শন, আর বিয়েকে দেখার ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি।

সুজাত শিমুল প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই তারা চেয়েছিলেন দেনমোহরের অঙ্কটি হবে ব্যতিক্রমী। এমন একটি সংখ্যা চেয়েছিলেন, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং যার মধ্যে বিশেষ অর্থ থাকবে। তারা বিয়েকে জীবনের খুব প্রয়োজনীয় একটি অংশ মনে করেন। বিয়ের মধ্য দিয়ে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়, এক ধরনের পরিপূর্ণতা আসে। সেই প্রয়োজনীয়তার জায়গা থেকেই দৈনন্দিন জীবনে বিপদ আপদে ফোন করার জরুরি নম্বর ৯৯৯-এর ধারণাটি এসেছে। অর্থাৎ, যে নম্বরটি মানুষের প্রয়োজনের মুহূর্তে কাজে লাগে, সেই নম্বরটিই তাদের বিয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

৯৯৯ সংখ্যাটির মধ্যে আরেকটি তাৎপর্যও খুঁজে পেয়েছেন সুজাত শিমুল। তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ৯৯৯ পাশাপাশি থাকলেও সংখ্যাটির পরের ঘরে একটি শূন্যস্থান রয়ে যায়। এটি মানুষের জীবনের অপূর্ণতার প্রতীক। মানুষের জীবন কখনোই পুরোপুরি পরিপূর্ণ হয় না, কোথাও না কোথাও কিছুটা ঘাটতি থেকেই যায়। ৯৯৯ থেকে এক যোগ করলেই ১০০০ হয়, অর্থাৎ পরিপূর্ণতার ঘরটি পূর্ণ হয়। কিন্তু বাস্তব জীবনে সেই একের ঘাটতি থেকেই যায়। এই দর্শন থেকেই তারা ৯৯৯ বেছে নিয়েছেন।

এর সঙ্গে একটি ব্যক্তিগত কারণও যুক্ত আছে। সুজাত শিমুল জানিয়েছেন, তার শ্বশুর পুলিশে ছিলেন। জরুরি সেবার ৯৯৯ নম্বরের সঙ্গে পুলিশের কাজের সম্পর্ক থাকায় সংখ্যাটির প্রতি তাদের বিশেষ ভালো লাগা তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে ৯৯৯ সংখ্যাটি তাদের পছন্দের হয়ে উঠেছে। তিনটি কারণ একসঙ্গে মিলেছে এখানে: দৈনন্দিন প্রয়োজন, অপূর্ণতার দর্শন, আর পরিবারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিগত স্মৃতি।

মঞ্চ ও টেলিভিশন নাটকের পরিচিত মুখ হিসেবে সুজাত শিমুলের এই সিদ্ধান্ত আলোচনার জন্ম দিয়েছে, কারণ এটি প্রচলিত ধারণার বাইরে। অনেক বিয়েতে দেনমোহরের অঙ্ক নিয়ে পরিবারের মধ্যে দর কষাকষি হয়, আবার অনেক সময় অঙ্কটি সামাজিক মর্যাদার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। সেখানে ৯৯৯ টাকার সিদ্ধান্ত বলছে, দেনমোহর বড় অঙ্ক হলেই বিয়ে মজবুত হয় না, আবার ছোট অঙ্ক মানেই গুরুত্ব কম নয়। গুরুত্বটা নির্ভর করে দম্পতির বোঝাপড়া ও সিদ্ধান্তের ওপর।

সুজাত শিমুল ও জান্নাতুন নেছা দুজনেই মঞ্চের মানুষ। একজন মঞ্চ ও টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করেন, অন্যজন থিয়েটার ও আবৃত্তির সঙ্গে যুক্ত। শিল্পের জগতে জীবনের অপূর্ণতা, প্রয়োজন আর প্রতীকের ভাষা তাদের কাছে নতুন কিছু নয়। তাই বিয়ের মতো ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তেও তারা একটি প্রতীকী সংখ্যাকে বেছে নিয়েছেন, যার গল্প তারা নিজেরাই বলছেন। এই খবরটি তাই শুধু একটি বিয়ের খবর নয়, বিয়ে নিয়ে ভাবনার একটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিরও খবর।

এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, এই সিদ্ধান্ত কি অন্যদের প্রভাবিত করবে। হয়তো করবে, হয়তো করবে না। তবে আলোচনা শুরু হয়েছে, এটাই বড় কথা। দেনমোহর নিয়ে সমাজে যে বড় অঙ্কের চাপ তৈরি হয়, সেই চাপের বাইরে একটি সহজ ও অর্থবহ সিদ্ধান্তের উদাহরণ হয়ে থাকবে ৯৯৯ টাকার এই বিয়ে। সুজাত শিমুল ও জান্নাতুন নেছার নতুন জীবনের জন্য শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন তাদের ঘনিষ্ঠজন ও ভক্তরা।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার