একাধিক সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে বলায় অনলাইনে কটাক্ষের মুখে পড়েছেন অভিনেত্রী শাহানা গোস্বামী। এবার তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন অভিনেত্রী শ্বেতা কেশওয়ানি। সমালোচকদের দ্বিচারী মনোভাবের কড়া সমালোচনা করে শ্বেতা প্রশ্ন তুলেছেন, পুরুষের একাধিক সম্পর্ক নিয়ে যেখানে তেমন আপত্তি দেখা যায় না, সেখানে নিজের শর্তে জীবন কাটাতে চাওয়া নারীদের কেন এত সমালোচনার মুখে পড়তে হবে। এই মন্তব্য ঘিরেই এখন আলোচনা চলছে।
সিদ্ধার্থ কাননের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় শ্বেতা বলেন, তাঁর মনে হয় শাহানা অসাধারণ। তিনি যদি এতজনের সঙ্গে সম্পর্ক সামলাতে পারেন, তাহলে তাঁর জন্য ভালোই। একটি সম্পর্ক সামলানোও মানসিকভাবে বেশ কঠিন হতে পারে, ক্লান্তিকর হতে পারে। পাঁচটি সম্পর্ক হলে কেমন হয়, ভেবে দেখতে বলেন শ্বেতা। শাহানা যদি এতে আনন্দ পান এবং এভাবেই চালিয়ে যেতে চান, তাহলে তাঁকে আরও মনোবল ও শুভকামনা জানানোর কথা বলেন তিনি।
শাহানার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অন্যদের এত আগ্রহ কেন, সেই প্রশ্নও তুলেছেন শ্বেতা। তাঁর ভাষ্য, অন্যের জীবন নিয়ে এত আগ্রহী এই মানুষগুলো কারা। তাঁরা কি নিজেদের জীবনে কিছু করতে পারেন না। নিজের জীবনের দিকে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। যাঁরা শাহানার জীবন নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করছেন, তাঁদের আচরণে শাহানার চেয়ে মন্তব্যকারীদের মানসিকতাই বেশি প্রকাশ পাচ্ছে বলে মনে করেন শ্বেতা।
নারী পুরুষের সম্পর্কে দ্বিচারিতা নিয়ে শ্বেতার বক্তব্য সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। তাঁর মতে, পুরুষের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে অনেক সময় তেমন সমালোচনা হয় না। অথচ কোনো নারী নিজের যৌনতা নিয়ে খোলামেলা কথা বললে কিংবা নিজের শর্তে জীবনযাপন করতে চাইলে তাঁকে নানা কটূক্তি শুনতে হয়। শ্বেতা বলেন, কোনো পুরুষ বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়ালে কেউ কিছু বলে না। কিন্তু কোনো নারী যৌনজীবনে সক্রিয় হলে এবং নিজের শর্তে জীবন কাটাতে চাইলে মানুষ দ্রুত মন্তব্য করে, সমালোচনা করে এবং তাঁকে নানা নামে ডাকে। এটি এক ধরনের দ্বিচারী মনোভাব।
সম্মতির ভিত্তিতে একাধিক সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়টি নতুন নয় বলেও উল্লেখ করেন শ্বেতা। তাঁর প্রশ্ন, শাহানার ব্যক্তিগত পছন্দ নিয়ে এত আলোচনা করার কী আছে। তিনি বলেন, খোলামেলা সম্পর্কের ভিত্তিতে বিয়েও হয়। মানুষ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যায়, যেগুলোকে কখনো কখনো কেমিস্ট্রি পার্টি বলা হয়। সেখানে তাঁরা অন্যদের সঙ্গে পরিচিত হন এবং সম্পর্কের বিভিন্ন দিক অন্বেষণ করেন। দম্পতিরাও একসঙ্গে এসব আয়োজনে যান এবং নিজেদের পছন্দমতো সম্পর্ক গড়ে তোলেন। তাই বিষয়টি নিয়ে এত হইচই কেন, তা তিনি বুঝতে পারেন না।
শ্বেতা আরও বলেন, কেউ যদি এতে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন এবং তাঁর সঙ্গীও যদি এতে রাজি থাকেন, তাহলে অন্যের শর্তে জীবন কাটাবেন কেন। শাহানা অন্যদের জন্য বাঁচছেন না, নিজের জন্য বাঁচছেন। তাঁর মতে, কেউ কেউ হয়তো এমন জীবনযাপনের পছন্দকে মেনে নিতে পারেন না, যা তাঁরা নিজেরা অনুসরণ করতে পারবেন না। হয়তো তাঁদের সমস্যা হলো, তাঁরা নিজেরা এসব করার সুযোগ পান না।
এর আগে সিদ্ধার্থ কাননের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় নিজের সম্পর্কের ধরন নিয়ে কথা বলেছিলেন শাহানা গোস্বামী। তিনি জানিয়েছিলেন, একাধিক মানুষের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও যোগাযোগ রয়েছে। এই মুহূর্তে তাঁর এমন কোনো একজন নির্দিষ্ট প্রধান সঙ্গীও নেই। এমন অনেক মানুষ আছেন, যাঁদের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও বোঝাপড়া রয়েছে। কিন্তু এগুলো হালকা কোনো সম্পর্ক নয়, তাঁর কাছে এর কোনোটিই হালকা নয়।
সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা বলতে কী বোঝেন, তা ব্যাখ্যা করে শাহানা আরও বলেন, তাই এই মুহূর্তে তাঁর কাছে স্বাধীনতা বা খোলামেলাভাবের অর্থ হলো, কারো সঙ্গেই নির্দিষ্ট কোনো সম্পর্কের বাঁধাধরা সংজ্ঞা নেই। তবে দীর্ঘদিনের বন্ধন ও যোগাযোগের অনুভূতি রয়েছে, যা সম্পর্কের ধরন যেমনই হোক, টিকে থাকে। কখনো তা কেবল বন্ধুত্ব, কখনো শারীরিক সম্পর্কও হতে পারে। কোনো নির্দিষ্ট দিকে সম্পর্ককে জোর করে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। এর মূল ভিত্তি হলো ভালোবাসা ও বন্ধুত্ব।
শাহানা জানান, অল্প বয়সেই খোলামেলা সম্পর্কের ধারণার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা ভালোবাসা ও প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, তিনি সব সময়ই মনে করেছেন, ভালোবাসা স্বাধীন হওয়া উচিত। এটি যেন সম্পর্কে জড়িত মানুষদের সীমাবদ্ধ বা আবদ্ধ করে না ফেলে। এই বিশ্বাস শুধু তিনি কী ধরনের সম্পর্ক বেছে নিয়েছেন, তা-ই নয়, সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্কগুলো কীভাবে গড়ে উঠেছে, সেটিও প্রভাবিত করেছে।
কে এই দুই অভিনেত্রী, তা জেনে নেওয়া যাক। শ্বেতা কেশওয়ানি ভারতীয় টেলিভিশনের পরিচিত অভিনেত্রী। কাহানি ঘর ঘর কি এবং বা বহু অউর বেবি-র মতো জনপ্রিয় ধারাবাহিকে অভিনয় করে পরিচিতি পেয়েছেন তিনি। ভারতীয় টেলিভিশনের পাশাপাশি মার্কিন টেলিভিশন ও থিয়েটারেও কাজ করেছেন এই অভিনেত্রী। অন্যদিকে শাহানা গোস্বামী রক অন, ফিরাক ও জুইগাটোর মতো চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য পরিচিত। সমালোচকদের প্রশংসা পাওয়া চলচ্চিত্র সন্তোষ-এ অভিনয় করেও নজর কেড়েছেন তিনি।
এই বিতর্ক আসলে শুধু দুই অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত জীবনের গল্প নয়। সমাজে নারী ও পুরুষের ব্যক্তিগত পছন্দকে ভিন্ন চোখে দেখার পুরোনো প্রশ্নটি আবার সামনে এনেছে শ্বেতার মন্তব্য। অনলাইনে ট্রোলিং, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিচার এবং দ্বিচারিতা, এই তিনটি বিষয় নিয়েই এখন আলোচনা চলছে। শাহানার পাশে দাঁড়িয়ে শ্বেতা যে প্রশ্ন তুলেছেন, তার উত্তর খুঁজতে গিয়ে অনেকেই নিজেদের মনোভাবের দিকে তাকাতে বাধ্য হচ্ছেন।
