বিনোদন ঝলক
তারকা

কড়া নিরাপত্তায় বিমানবন্দরে সালমান খান: সশস্ত্র রক্ষীদের বেষ্টনীতে ভাইজান

বিনোদন ঝলক ডেস্ক২০ অক্টোবর ২০২৬3 মিনিটে পড়ুন
কড়া নিরাপত্তায় বিমানবন্দরে সালমান খান: সশস্ত্র রক্ষীদের বেষ্টনীতে ভাইজান

মঙ্গলবার সকালে মুম্বাইয়ের কালিনা বিমানবন্দরে কড়া নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে দেখা গেল বলিউড সুপারস্টার সালমান খানকে। বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনার পর চলচ্চিত্র জগতের তারকাদের নিরাপত্তা জোরদারের যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তারই প্রতিফলন দেখা গেল ভাইজানের এই বিমানবন্দর-যাত্রায়। গাঢ় নেভি ব্লু রঙের শার্ট, গাঢ় ডেনিম জিনস, কালো বুট ও অ্যাভিয়েটর সানগ্লাস পরা সালমানকে গাড়ি থেকে নামার সময় ঘিরে ছিলেন বিশেষ সুরক্ষা ইউনিটের সশস্ত্র সদস্যরা, আর তাদের হাতে ছিল স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র। ছবিগুলো সামনে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা।

পটভূমিটা গুরুতর। রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর এক দিন পর, সোমবার (১৯ অক্টোবর) মুম্বাই পুলিশ শহরের অন্যান্য চলচ্চিত্র তারকাদের নিরাপত্তা জোরদার করে। এরই মধ্যে টাইগারের বাড়িতে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে, আর সেখানেই তিনি চলচ্চিত্র জগতের তারকাদের নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনার আশ্বাস দেন। সেই আশ্বাসের পর থেকেই সালমানের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, আর মঙ্গলবার সকালের বিমানবন্দরের দৃশ্য সেই আলোচনাকেই আরও জোরদার করল।

কেন সালমানকে ঘিরে এত উদ্বেগ? কারণ, টাইগার-হামলার দায় স্বীকার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ যে পোস্ট দেওয়া হয়েছে, সেখানে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্য বলে দাবি করা অনিল পণ্ডিত ও হরমন সান্ধু একই সঙ্গে সালমান খানের সঙ্গে কাজ করা ব্যক্তিদেরও হুমকি দিয়েছেন। তবে এই পোস্টের সত্যতা নিয়ে পুলিশি তদন্ত চলছে, এবং পুলিশের চূড়ান্ত বক্তব্য এখনো আসেনি, তাই এই দাবিকে যাচাই-চলমান হিসেবেই দেখতে হবে। আমাদের আগের প্রতিবেদনেও এই সতর্কতা রাখা হয়েছিল। এর আগে ২০২৪ সালের এপ্রিলে বান্দ্রায় সালমানের গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে মোটরবাইকে এসে গুলি চালানোর ঘটনাও ঘটেছিল, সেই প্রেক্ষাপট মাথায় রেখেই বর্তমানে তাঁর নিরাপত্তা আরও কঠোর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

তদন্তের অগ্রগতিও উল্লেখযোগ্য। বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, টাইগারকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। আমাদের আগের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, রাজস্থানের কোটা রেলস্টেশন থেকে পুনে-জয়পুর এক্সপ্রেসে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যদিকে, দায় স্বীকারের পোস্টে সালমানের সঙ্গে কাজ করা ব্যক্তিদেরও হুমকি দেওয়ায় তাঁর বাড়ির আশপাশের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। মুম্বাই পুলিশের আশ্বাস, যেকোনো হুমকির মুখে পড়া ব্যক্তির নিরাপত্তাই বাড়ানো হবে।

ঘটনার টাইমলাইনটা একবার দেখে নেওয়া যাক। রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের জুহুতে টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়, অভিনেতা অক্ষত থাকলেও ঘটনাস্থলে দুজন আহত হন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে রাজস্থানের কোটা রেলস্টেশনে পুনে-জয়পুর এক্সপ্রেস থেকে তিনজনকে আটক করে পুলিশ, আর সেদিনই টাইগারের বাড়িতে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে। এরপর শহরের তারকাদের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়, আর মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে কালিনা বিমানবন্দরে সেই কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই দেখা গেল সালমানকে। সেদিন সন্ধ্যাতেই এই খবর প্রকাশ করে বাংলা ট্রিবিউন।

এই ঘটনা বলিউডের জন্য কেন বড় বার্তা? গত কয়েক বছরে সালমান খান থেকে শুরু করে একের পর এক তারকা হুমকি ও হামলার নিশানায় এসেছেন, আর প্রতিটি ঘটনার পরই নিরাপত্তা-ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এবার উপমুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি আশ্বাস ও দৃশ্যমান কড়া নিরাপত্তা সেই প্রশ্নেরই জবাব দেওয়ার চেষ্টা। তবে তারকাদের দৈনন্দিন জীবনে এই বাড়তি নিরাপত্তা কতদিন থাকবে, আর তদন্ত শেষ পর্যন্ত কাদের দিকে আঙুল তুলবে, সেটাই এখন দেখার। পুলিশের পরবর্তী আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের দিকেই তাকিয়ে বলিউড।

এরপর কী হবে? এখন সব চোখ পুলিশের পরবর্তী আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের দিকে। আটক তিনজনের জিজ্ঞাসাবাদে হামলার নেপথ্যে কারা, সেই প্রশ্নের উত্তর মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, এক্স-এ দায় স্বীকারের পোস্টটি আসলেই হামলাকারীদের কি না, তা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত সতর্কতাই থাকবে মূল নীতি। বলিউডের জন্য এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, তারকাদের নিরাপত্তা এখন শুধু ব্যক্তিগত বিষয় নয়, বরং গোটা ইন্ডাস্ট্রিরই উদ্বেগের কারণ।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার