বলিউড অভিনেতা সাইফ আলি খানের বান্দ্রার বাড়িতে হামলার ঘটনায় বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হতেই সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে গভীর রাতে অভিনেতার বাড়িতে ঢুকে পড়েছিলেন এক অনুপ্রবেশকারী। সে সময় বাড়িতে ছিলেন সাইফ, তাঁর স্ত্রী কারিনা কাপুর খান এবং তাঁদের দুই সন্তান তৈমুর ও জেহ। এবার আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে সেই রাতের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন পরিবারের এক নার্স।
মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দেন ৫৯ বছর বয়সি ওই নার্স। তিনি সাইফ ও কারিনার ছোট ছেলে জেহর দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর বয়ান অনুযায়ী, গভীর রাতে জেহর ঘরে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে দেখতে পান তিনি। রাত প্রায় দুটোর দিকে শব্দ শুনে জেগে উঠেছিলেন তিনি, আর তখনই জেহর বিছানার কাছে টুপি পরা এক ব্যক্তির ছায়া চোখে পড়ে। শিশুটির কাছে যাওয়ার চেষ্টা করলে বাধা দেন নার্স। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর আঙুলে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ। অনুপ্রবেশকারী টাকা দাবি করেছিল বলেও সাক্ষ্যে উঠে এসেছে।
এই সাক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ হামলার রাতের ঘটনাক্রম এতদিন মূলত পুলিশি তদন্ত আর সংবাদমাধ্যমের খবরের ভিত্তিতে জানা যাচ্ছিল। এখন প্রথমবারের মতো সেই রাতে ঘরে উপস্থিত একজন প্রত্যক্ষদর্শী আদালতের সামনে নিজের বয়ান দিলেন। ছোট শিশুর ঘরে অনুপ্রবেশকারীকে দেখা, তাঁকে বাধা দেওয়া আর আহত হওয়া, এই তিনটি বিষয় মামলার গতিপথে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করবে আদালত, তবে সাক্ষীর বয়ান অভিযোগপক্ষের বক্তব্যকে শক্ত ভিত দিয়েছে।
প্রসঙ্গটা মনে রাখা দরকার। ২০২৫ সালের জানুয়ারির সেই রাতে সাইফের বাড়িতে অনুপ্রবেশের ঘটনা সারা ভারতে আলোড়ন তুলেছিল। একজন তারকার বাড়ির ভেতরে এভাবে ঢুকে পড়া আর সংঘর্ষের ঘটনা তারকাদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছিল। সাইফ নিজেও সেই ঘটনায় আহত হয়েছিলেন বলে তখন জানা গিয়েছিল। দীর্ঘ তদন্তের পর এখন মামলা বিচারের পর্যায়ে পৌঁছেছে, আর প্রথম সাক্ষীর জবানবন্দি দিয়েই সেই বিচারপ্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো।
এরপর কী, সেই প্রশ্নের উত্তর এখন আদালতের পরবর্তী শুনানির ওপর নির্ভর করছে। প্রথম সাক্ষীর জবানবন্দির পর অন্য সাক্ষীদের বয়ানও আসবে, আর অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্যও শোনা হবে। হামলার উদ্দেশ্য কী ছিল, অনুপ্রবেশকারী কীভাবে বাড়িতে ঢুকেছিল, আর সেই রাতে ঠিক কী কী ঘটেছিল, এই প্রশ্নগুলোর উত্তর বিচারপ্রক্রিয়াতেই স্পষ্ট হবে। আপাতত নার্সের সাক্ষ্যই সেই রাতের সবচেয়ে প্রত্যক্ষ বিবরণ হিসেবে সামনে এসেছে।
