ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এমন প্রজেক্ট কমই এসেছে। মহাকাব্য 'রামায়ণ' এবার বড় পর্দায় আসছে দুই পর্বে, আর প্রথম পর্ব 'রামায়ণ: পার্ট ওয়ান' মুক্তি পাচ্ছে আগামী ৫ নভেম্বর। মুক্তির ১৫ দিন আগেই অগ্রিম টিকিট বিক্রিতে ঝড় উঠেছে: প্রথম ২৪ ঘণ্টায় শুধু বড় প্রেক্ষাগৃহ-শৃঙ্খলগুলোতেই বিক্রি হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার টিকিট। ছবিটি দেখতে যাওয়ার আগে গল্প, কাস্ট আর মুক্তির খুঁটিনাটি জেনে নিন এই লেখায়।
গল্পটি মহাকাব্যেরই। অযোধ্যার রাজকুমার রামের বনবাস, সীতার সঙ্গে তার জীবন, লঙ্কার রাজা রাবণের সীতাহরণ আর তার জেরে শুরু হওয়া মহাযুদ্ধের প্রস্তুতি, ভারতীয় উপমহাদেশের সবচেয়ে পরিচিত এই কাহিনিকেই আধুনিক প্রযুক্তি আর বিশাল আয়োজনে পর্দায় তুলে ধরছেন নির্মাতারা। দুই পর্ব মিলিয়ে পুরো মহাকাব্য শেষ হবে, দ্বিতীয় পর্বের পরিকল্পনা ২০২৭ সালের দীপাবলিতে।
কাস্টিংয়েই ছবির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। রামের চরিত্রে রণবীর কাপুর, সীতার চরিত্রে সাই পল্লবী, আর রাবণের চরিত্রে কন্নড় সুপারস্টার যশ। এই তিন নামই যথেষ্ট ছিল আলোচনা তৈরির জন্য। এছাড়া লক্ষ্মণের চরিত্রে রবি দুবে, হনুমানের চরিত্রে সানি দেওল, আরও রয়েছেন রকুলপ্রীত সিং, কুণাল কাপুর ও বিবেক ওবেরয়। পরিচালনায় নীতেশ তিওয়ারি, যিনি 'দঙ্গল'-এর মতো ছবি বানিয়েছেন, প্রযোজনায় নামিত মালহোত্রা। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দুই পর্ব মিলিয়ে ছবির বাজেট প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা, যা সত্যি হলে এটি ভারতের সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রজেক্টগুলোর একটি।
মুক্তির সূচিতে ছোট্ট বদল এসেছে শেষ মুহূর্তে। ৪ নভেম্বর থেকে শুরু হবে পেইড প্রিভিউ, আর আনুষ্ঠানিক মুক্তি ৫ নভেম্বর, ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় একই সময়ে। উত্তর আমেরিকাতেও প্রিভিউ ও মুক্তির সূচি সাজানো হয়েছে একই সপ্তাহে। দীপাবলির ঠিক আগের এই সময় বেছে নেওয়া নিয়ে বাণিজ্য মহলে আলোচনা থাকলেও অগ্রিম বিক্রির গতি বলছে, দর্শকের আগ্রহে এসব হিসাব খুব একটা কাজ করছে না।
প্রচারণার অংশ হিসেবে দশেরার অনুষ্ঠানে কলকাতায় এসেছিলেন রণবীর কাপুর ও যশ, সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্কে রাবণ দহনের সাক্ষী হন তারা। সেই অনুষ্ঠান থেকেই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা এসেছে, রাজ্যে ছবিটি করমুক্ত থাকবে। মুক্তির আগেই এমন ঘোষণা ছবির ব্যবসায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশি দর্শকদের জন্য এখনো স্থানীয় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির নিশ্চিত খবর আসেনি। আর ওটিটি মুক্তি বা ফ্রি দেখার প্রশ্নে উত্তরটা স্পষ্ট: এই মুহূর্তে ছবিটি শুধুই প্রেক্ষাগৃহের জন্য, বৈধভাবে ফ্রি দেখার কোনো উপায় নেই। প্রেক্ষাগৃহ-জীবন শেষ হলে ওটিটি ঘোষণা আসবে, তখনই জানা যাবে কোন প্ল্যাটফর্মে দেখা যাবে। আপাতত পরিকল্পনা একটাই, ৫ নভেম্বরের জন্য টিকিটের দিকে নজর রাখা।
অগ্রিম বিক্রির এই সংখ্যা কেন এত আলোচিত, তা বোঝা যায় তুলনায়। সাধারণত বলিউড ছবির অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয় মুক্তির কয়েক দিন আগে। 'রামায়ণ' সেই ছক ভেঙে ১৫ দিন আগে বিক্রি শুরু করেছে, তবু প্রথম দিনের গতি ছিল বিস্ময়কর। পিংকভিলার হিসাব অনুযায়ী, সারা দেশে পূর্ণাঙ্গ বিক্রি শুরু হলে প্রথম ২৪ ঘণ্টার সংখ্যা ৬০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারত। এখনো বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ ও চেন্নাইয়ের মতো বড় শহরে বিক্রি শুরুই হয়নি, যশের দক্ষিণী দর্শকভিত্তি মাথায় রাখলে আসল ঝড়টা এখনো বাকি থাকতে পারে।
তবে সব দেশে একই সঙ্গে মুক্তি হচ্ছে না। চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও হংকংয়ের মুক্তির তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি, সেসব বাজারে ছবিটি পরে আসতে পারে। বাংলাদেশের দর্শকদের জন্যও স্থানীয় মুক্তির ঘোষণা এলে তা হবে আলাদা খবর। মহাকাব্যের এই আয়োজন বক্স অফিসে শেষ পর্যন্ত কতটা ইতিহাস গড়ে, সেটাই এখন দেখার।
