আসছে শনিবার, ২৪ অক্টোবর পরীমনির জন্মদিন। কিন্তু এবারও সেই দিনে কোনো জমকালো আয়োজন হবে না। ২০২৩ সালে প্রিয় নানাকে হারানোর পর থেকে আর সেভাবে জন্মদিন উদযাপন করেননি এই চিত্রনায়িকা। তবে এবার কাছের মানুষদের নিয়ে ছোট পরিসরে একটি সন্ধ্যা কাটানোর কথা ভাবছেন তিনি।
একসময় চিত্রনায়িকা পরীমনির জন্মদিন মানেই ছিল জমকালো আয়োজন। পাঁচতারা হোটেলের ঝলমলে পরিবেশ, রঙিন থিম, বিশেষ পোশাক, কেক কাটা আর তারকাদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর হয়ে উঠত পুরো আয়োজন। তবে সেই জৌলুশে এখন ভাটা পড়েছে।
এ প্রসঙ্গে পরীমনি বলেন, 'নানু ভাই যাওয়ার পরে আসলে আমি বার্থডে কখনো সেলিব্রেটই করি নাই। আমার মাথায় আসে নাই যে আমি নানু ভাইকে ছাড়া কেক কাটবো, সবাইকে নিয়ে হইচই করবো সেটা আমার মাথায় আসে নাই একদমই।' অর্থাৎ নানাকে হারানোর পর থেকে জন্মদিনের সাজসজ্জা তাঁর জীবন থেকে হারিয়ে গেছে।
তবে এবার জন্মদিনে কাছের মানুষদের নিয়ে কিছুটা সময় কাটানোর কথা ভাবছেন এই অভিনেত্রী। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর কাছের প্রিয় মানুষদের নিয়ে ছোট পরিসরে একটি সন্ধ্যা কাটাতে চান তিনি। ২০২৩ সালের পর এটাই হবে তাঁর প্রথম বারের মতো জন্মদিন উদযাপন, যদিও আগের মতো জমকালো কোনো আয়োজন নয়।
কেন নানাকে ঘিরে এত আবেগ? ১৯৯২ সালের ২৪ অক্টোবর সাতক্ষীরায় জন্ম পরীমনির। তাঁর জন্মনাম শামসুন্নাহার স্মৃতি। পিরোজপুরের শঙ্করপাশা গ্রামে কেটেছে তাঁর শৈশব। মাত্র তিন বছর বয়সে মাকে হারান তিনি। এরপর বাবা মনিরুল ইসলাম তাঁকে রেখে আসেন পিরোজপুরে নানাবাড়িতে। সেখানেই নানা শামসুল হক গাজীর স্নেহে বেড়ে ওঠেন অভিনেত্রী।
শৈশব থেকে জীবনের নানা পর্যায়ে নানাই ছিলেন পরীমনির সবচেয়ে কাছের মানুষ। মাকে হারানোর পর যিনি তাঁকে বুকে টেনে নিয়েছিলেন, তাঁকে হারানোর পর জন্মদিনের আনন্দও যেন অর্থহীন হয়ে যায় তাঁর কাছে। সেই নানাকে ২০২৩ সালে হারানোর পর বদলে যায় তাঁর জন্মদিন উদযাপনের অভ্যাসও।
নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বুলবুল একাডেমি অব ফাইন আর্টসে (বাফা) নাচ শিখতে ভর্তি হয়েছিলেন পরীমনি। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নাচের পাশাপাশি অভিনয়ের সুযোগ পান টেলিভিশন নাটকে। 'সেকেন্ড ইনিংস', 'এক্সক্লুসিভ' ও 'এক্সট্রা ব্যাচেলরসহ কয়েকটি নাটকে অভিনয় করেন তিনি। পরে 'নারী ও নবনীতা তোমার জন্য' নাটকে মূল চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান।
২০১৫ সালে চলচ্চিত্রে নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয় তাঁর। নজরুল ইসলাম খানের পরিচালনায় 'রানা প্লাজা' সিনেমায় অভিনয় করলেও নানা জটিলতায় ছবিটির মুক্তি আটকে যায়। পরে শাহ আলম মণ্ডলের পরিচালনায় 'ভালোবাসা সীমাহীন' সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তাঁর।
রোমান্টিক চরিত্রে সহজ-সাবলীল অভিনয় দিয়ে নজর কাড়েন পরীমনি। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে একসঙ্গে প্রায় দুই ডজন সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। যদিও সেসব সিনেমার অনেকগুলো শেষ পর্যন্ত নির্মিত হয়নি, কিছু নির্মিত হলেও মুক্তি পায়নি।
এরপর ধীরে ধীরে অভিনয়ে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেন পরীমনি। 'রূপবান' সিনেমায় গ্রামীণ তরুণীর চরিত্রে অভিনয় করে গ্ল্যামারের বাইরেও নিজের সংবেদনশীল অভিনয়ক্ষমতার পরিচয় দেন। গিয়াস উদ্দিন সেলিমের 'স্বপ্নজাল'-এ রূপা চরিত্রে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়। 'বিশ্বসুন্দরী'তে তৃষ্ণা এবং 'গুণিন' সিনেমায় অভিনয়ের মধ্য দিয়ে নানা ধরনের চরিত্রে নিজেকে তুলে ধরেন তিনি। আর 'মা' সিনেমায় সন্তান হারানো এক মায়ের যন্ত্রণা, মাতৃত্ব ও সংগ্রামের আবেগ ফুটিয়ে তুলে নিজের অভিনয়জীবনে যোগ করেন ভিন্ন এক অধ্যায়।
এবারের জন্মদিন নিয়ে কী পরিকল্পনা? কোনো জমকালো পার্টি নয়, বরং কাছের মানুষদের সঙ্গে একটি নিভৃত সন্ধ্যা। নানার স্মৃতি বুকে নিয়ে এবার হয়তো ধীরে ধীরে ফিরবেন তিনি পুরনো আনন্দে। ২৪ অক্টোবর ভক্তদের কাছেও এটি একটি বিশেষ দিন, কারণ নানাকে হারানোর পর পরীমনি প্রথমবার জন্মদিন উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
