বিনোদন ঝলক
সিরিয়াল

নাগিন ৭ শেষে কী হলো: অনন্তা বনাম ড্রাগন রাধিকার শেষ লড়াই, সব পর্ব কোথায় দেখবেন

বিনোদন ঝলক ডেস্ক২২ অক্টোবর ২০২৬4 মিনিটে পড়ুন
নাগিন ৭-এর প্রধান অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চাহার চৌধুরী
প্রিয়াঙ্কা চাহার চৌধুরী। ছবি: Bollywood Hungama, CC BY 3.0 (Wikimedia Commons) (ছবি: Bollywood Hungama, CC BY 3.0)

ভারতীয় টেলিভিশনের সবচেয়ে আলোচিত অতিপ্রাকৃত ফ্র্যাঞ্চাইজির সপ্তম সিজন 'নাগিন ৭' শেষ হয়েছে চলতি বছরের জুনে। যারা শেষের দিকের পর্বগুলো মিস করেছেন বা পুরো সিজনটা একটানা দেখতে চাইছেন, তাদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরছে: শেষে আসলে কী হলো, আর সব পর্ব বৈধভাবে কোথায় পাওয়া যাবে। এই লেখায় দুটো প্রশ্নেরই উত্তর রয়েছে।

সিজনটি শুরু হয়েছিল ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর, কালার্স টিভিতে প্রতি শনি ও রবিবার রাত ৮টায়। প্রযোজনায় ছিলেন একতা কাপুরের বালাজি টেলিফিল্মস। এবারের নাগিনের ভূমিকায় ছিলেন প্রিয়াঙ্কা চাহার চৌধুরী, চরিত্রের নাম অনন্তা, যিনি পূর্বী নামেও পরিচিত গল্পে। অনন্ত বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ নাগিন তিনি। তার বিপরীতে নায়ক আর্যমান সুরির চরিত্রে ছিলেন নামিক পাল। এবারের সিজনের সবচেয়ে বড় চমক ছিল গল্পের পটভূমি: মহাকুম্ভ। একতা কাপুর নিজেই জানিয়েছিলেন, এই প্রথম নাগিনের গল্প সাজানো হয়েছে মহাকুম্ভের প্রেক্ষাপটে, সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ড্রাগন আর ওয়্যারউলফের মতো নতুন পৌরাণিক স্তর।

গল্পের কেন্দ্রীয় সংঘাত ছিল দুই বোনকে ঘিরে। অনন্তার বোন রাধিকা, যাকে অভিনয় করেছেন কণিকা মান, ছোটবেলায় পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে শত্রুপক্ষের হাতে বড় হয়। তার বিশ্বাস, মা তাকে ছেড়ে দিয়েছিলেন অনন্তার জন্যই। সেই ক্ষোভ থেকেই সে বোনের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়। গল্পের এক পর্যায়ে জানা যায়, এক পরীক্ষার মাধ্যমে রাধিকা রূপ বদলাতে পারা শক্তিশালী ড্রাগনে পরিণত হয়েছে। ফলে এবারের লড়াই শুধু নাগিন বনাম শত্রু নয়, নাগিন বনাম ড্রাগন, আবার বোন বনাম বোন।

শেষের দিকে গল্পে আসে সময়ের লাফ। রাধিকা মনে করেছিল অনন্তা আর বেঁচে নেই, আর্যমানকে নিয়ে সে নতুন জীবন শুরু করে। কিন্তু অনন্তা ফিরে আসে অপ্রত্যাশিতভাবে, আর তারপর একে একে খুলতে থাকে গোপন সত্যের গিঁট: রাধিকা আসলে তারই বোন। শেষ পর্বে দুই বোনের মুখোমুখি লড়াইয়ে যোগ দেন ফ্র্যাঞ্চাইজির আগের দুই জনপ্রিয় নাগিনও। প্রগতীর চরিত্রে বিশেষ উপস্থিতিতে ছিলেন তেজস্বী প্রকাশ, যিনি অনন্তার মায়ের ভূমিকায় আগেও দেখা দিয়েছিলেন, আর শেষ পর্বে অনিতা হাসনন্দানিও ফিরে আসেন নিজের চেনা চরিত্রে। ড্রাগনের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত যুদ্ধে তিন নাগিনের একসঙ্গে লড়াই ছিল ফিনালের সবচেয়ে আলোচিত অংশ।

সিজনটি শেষ হয়েছে মোট ৫০টি পর্বে, ২০২৬ সালের ১৪ জুন। মজার তথ্য হলো, একতা কাপুর আগেই জানিয়েছিলেন, 'নাগিন ৭' পরিকল্পনা করা হয়েছিল মাত্র ৩০ পর্বের সীমিত সিরিজ হিসেবে। কিন্তু চ্যানেলের অনুরোধে সেটি বাড়িয়ে ৫০ পর্ব করা হয়। তিনি এটাও স্পষ্ট করেছেন, সিরিজ শেষ করার সিদ্ধান্ত টিআরপির কারণে নয়। বরং এখন থেকে নাগিন আসবে মৌসুমভিত্তিক ধারাবাহিক হিসেবে, অর্থাৎ নির্দিষ্ট গল্প শেষ করে বিরতি, তারপর নতুন মৌসুম। সেই হিসেবে 'নাগিন ৮' আসছে আগামী বছর, যদিও তারিখ এখনো ঘোষণা হয়নি।

এবার আসা যাক দেখার প্রশ্নে। 'নাগিন ৭'-এর সব পর্ব এখন পাওয়া যাচ্ছে JioHotstar-এ, যেখানে টিভি সম্প্রচারের পাশাপাশি প্রতি সপ্তাহান্তে নতুন পর্ব যোগ হতো। তবে বাংলাদেশি দর্শকদের জন্য সত্যটা হলো, JioHotstar মূলত ভারতের দর্শকদের জন্য তৈরি প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ থেকে সরাসরি সাবস্ক্রিপশন নেওয়ার আনুষ্ঠানিক সুযোগ নেই। ফলে বাংলাদেশ থেকে বৈধভাবে পুরো সিজন দেখার বিকল্প এই মুহূর্তে সীমিত। কোনো ওয়েবসাইট বা টেলিগ্রাম চ্যানেলে ফ্রি পর্বের লোভ দেখালে সেটি পাইরেসি, সেসব এড়িয়ে চলাই নিরাপদ।

যারা আগের সিজনগুলো দেখেননি, তাদের জন্য এই সিজন আলাদাভাবেও দেখা যায়, কারণ গল্পটি মূলত অনন্তা ও রাধিকার নিজস্ব কাহিনি। তবে ফিনালের আবেগ পুরোপুরি পেতে চাইলে অন্তত এই সিজনের প্রথম কয়েকটি পর্ব দেখে নেওয়া ভালো, যেখানে দুই বোনের বিচ্ছেদের পেছনের গল্পটা সাজানো হয়েছে।

অভিনয়শিল্পীদের তালিকাটাও ছিল চমকপ্রদ। ঈশা সিংয়ের চরিত্রটির অকাল মৃত্যু মৌসুমের শুরুর দিকের সবচেয়ে বড় ধাক্কা ছিল, কারণ শত্রুরা তাকেই আসল শক্তিশালী নাগিন ভেবে ভুল করেছিল। গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন করণ কুন্দ্রা ও সাহিল উপ্পাল, বর্ষীয়ান অভিনেত্রী বীনা ব্যানার্জি আর রুহি চতুর্বেদীও ছিলেন প্রধান চরিত্রদের পাশে। ২০১৫ সালে মউনি রায়কে দিয়ে শুরু হওয়া এই ফ্র্যাঞ্চাইজিতে এর আগে নাগিন হয়েছেন সুরভি জ্যোতি, জেসমিন ভাসিন, নিয়া শর্মা, সুরভি চন্দনা আর তেজস্বী প্রকাশ। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হলো প্রিয়াঙ্কার নাম।

মাঝমৌসুমে একটি ভিজ্যুয়াল এফেক্টের ভুল নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় হাসির ঝড়ও উঠেছিল, যেখানে রাধিকার ড্রাগন রূপান্তরের দৃশ্যে ব্লু স্ক্রিনের গণ্ডগোল ধরা পড়ে। একতা কাপুর নিজে সেই ভাইরাল মুহূর্ত নিয়ে হাস্যরসের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া দিয়েছিলেন। এসব ছোটখাটো বিতর্ক সরিয়ে রাখলেও সিজনটির মূল আকর্ষণ ছিল এর বিস্তার: মহাকুম্ভের পটভূমি, ড্রাগন বনাম নাগিনের লড়াই আর দুই বোনের আবেগের গল্প একসঙ্গে বুনে দেওয়া।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার