বাংলাদেশ মহিলা সমিতির ড. নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে নাটক মঞ্চস্থ করার ভর্তুকি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন দেশের ১০১ জন নাট্যশিল্পী ও নাট্যকর্মী। ২৫ অক্টোবর দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছে এই দাবি জানান, খবরটি প্রকাশ করেছে দ্য ডেইলি স্টার।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন সৈয়দ জামিল আহমেদ, সারা যাকের, মামুনুর রশীদ, রামেন্দু মজুমদার, ফেরদৌসী মজুমদার, মাসুম রেজা, ত্রপা মজুমদার, ফজলুর রহমান বাবু, আজাদ আবুল কালাম ও সামিনা লুৎফাসহ মোট ১০১ জন। নাট্যকার অপু মেহেদী, যিনি নাট্য পত্রিকা ক্ষ্যাপার নির্বাহী সম্পাদক, তাঁদের পক্ষে বিবৃতিটি দিয়েছেন।
তাঁদের দুটি দাবি: ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য মহিলা সমিতি মিলনায়তনের জন্য চাওয়া ১৪ লাখ ৩০ হাজার টাকার বরাদ্দ অবিলম্বে দেওয়া, এবং নাট্যচর্চার জন্য সামগ্রিক আর্থিক সহায়তা বাড়িয়ে নিয়মিত বরাদ্দ নিশ্চিত করা। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে নাটকের জন্য সরকারি সহায়তা এমনিতেই খুব কম, সেই সামান্য সহায়তা তুলে নেওয়াটা হতাশাজনক।
ভাড়ার হিসাবটাই সমস্যার কেন্দ্রে। জানুয়ারি থেকে প্রতি শিফটের ভাড়া ৫ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১১ হাজার ৫০০ টাকা, কারণ মন্ত্রণালয়ের ৬ হাজার ৫০০ টাকার ভর্তুকি বন্ধ হয়ে গেছে। নাট্যদলগুলো বলছে, টিকিট বিক্রি থেকে প্রযোজনার খরচই উঠছে না, ফলে অনেক দলই এই মিলনায়তনে নাটক করতে আগ্রহ হারাচ্ছে।
এই ভর্তুকি ব্যবস্থা শুরু হয়েছিল ২০১৭ সালের জুনে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শেষ বরাদ্দ ছিল ১১ লাখ টাকা, আর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কোনো বরাদ্দই দেওয়া হয়নি। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য মহিলা সমিতি চেয়েছে ১৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা, যার হিসাব: প্রতি প্রদর্শনীতে ৬ হাজার ৫০০ টাকা করে মাসে ২০টি প্রদর্শনী, ১১ মাস ধরে (এক মাস মিলনায়তন বন্ধ থাকে)।
মিলনায়তনটির ঐতিহাসিক গুরুত্বও বিবৃতিতে তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশে টিকিট কেটে নাটক দেখার সংস্কৃতি শুরু হয়েছিল এই মহিলা সমিতির মঞ্চেই, ১৯৭৩ সালে। পরে ২০০৫ সালের ২৬ আগস্ট তৎকালীন মেয়র সাদেক হোসেন খোকা এই সড়কের নাম রাখেন নাটক সরণি। নাট্যকর্মীদের বক্তব্য, এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে মঞ্চটিকে সচল রাখা সরকারের দায়িত্বেরই অংশ।
বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগও আগেই হয়েছে। মহিলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক তামান্না রহমান ১২ আগস্ট সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীকে চিঠি দিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের সহায়তা চেয়েছিলেন, যেখানে মাসে গড়ে ২০টি প্রদর্শনী চালু রাখার কথা বলা হয়েছিল। ডেইলি স্টারের আগের প্রতিবেদনে সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম জানিয়েছিলেন, মন্ত্রণালয় বিষয়টি দেখবে এবং নাট্যকর্মীদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
এখন প্রশ্ন একটাই: ১০১ জনের এই যৌথ দাবির পর মন্ত্রণালয় কবে বরাদ্দের সিদ্ধান্ত জানায়। ভর্তুকি ফিরলে মিলনায়তনে আবার নিয়মিত নাটকের প্রদর্শনী বাড়বে বলে আশা করছেন নাট্যকর্মীরা, আর সিদ্ধান্ত দেরি হলে মঞ্চটি আরও ফাঁকা হয়ে পড়ার শঙ্কা তাঁদের। নতুন কোনো সিদ্ধান্ত এলে তা জানানো হবে।
