বাংলাদেশের প্রতিদিনের বিনোদন পোর্টাল
বিনোদন ঝলক

দেশি-বিদেশি নাটক, সিনেমা ও সিরিজের প্রতিদিনের বিনোদন খবর

তারকা

ঢাকায় লালন সন্ধ্যা ২০২৬: ওসমানী মিলনায়তনে বাউল, বাঁশি আর লালনগীতিতে কেন মুগ্ধ হলেন সাত শতাধিক অতিথি?

বিনোদন ঝলক ডেস্ক১ নভেম্বর ২০২৬2 মিনিটে পড়ুন
ঢাকায় লালন সন্ধ্যা ২০২৬ নিয়ে বিনোদন ঝলকের গ্রাফিক
ছবি: বিনোদন ঝলক

শনিবার, ৩১ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে লালন সন্ধ্যা ২০২৬। ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন ও ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টার যৌথভাবে এই সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করে। ফকির লালন শাহের জীবন, দর্শন ও সংগীতের ঐতিহ্য স্মরণ করাই ছিল অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য। যুগান্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাত শতাধিক অতিথি এতে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ফকির লালন শাহকে মানবতার আলোকবর্তিকা হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, লালন শাহের সর্বজনীন মানবতাবাদী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক দর্শন ভারত ও বাংলাদেশের বন্ধুত্বেরও একটি সেতু। সমুদ্রে দিক হারানো একটি জাহাজ যেমন পথ খুঁজে পেতে আলোকবর্তিকার সন্ধান করে, তেমনি মানবতার পথ দেখানোর ক্ষেত্রে ফকির লালন শাহ আলোকবর্তিকার মতো, এই উপমা দিয়েই নিজের বক্তব্য সাজান তিনি।

দীনেশ ত্রিবেদী আরও বলেন, লালন শাহের গান ও দর্শনের আবেদন এখনো সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তার গানে মানবতা এবং সামাজিক ও ধর্মীয় বিভাজন অতিক্রমের যে বার্তা রয়েছে, তা সর্বজনীন মূল্যবোধের প্রতিফলন। বাংলার অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে বাউলধারার গুরুত্ব এবং ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

সাংস্কৃতিক পর্ব শুরু হয় বাংলাদেশের বিশিষ্ট বাউল ও লোকসংগীতশিল্পী শফি মণ্ডলের নেতৃত্বে একটি বাউল দলের সংগীত পরিবেশনা দিয়ে। ফকির লালন শাহের মরমি দর্শনে গভীরভাবে প্রোথিত এসব পরিবেশনায় বাংলার গ্রামীণ বাউল ঐতিহ্যের আধ্যাত্মিক দিক তুলে ধরা হয়। এরপর বাঁশি পরিবেশন করেন প্রখ্যাত লোকসংগীতশিল্পী প্রয়াত ফরিদা পারভীনের স্বামী গাজী আবদুল হাকিম। তার সঙ্গে সংগীত পরিবেশন করেন বাংলাদেশের লোক ও ঐতিহ্যবাহী সংগীতশিল্পী নাসরিন আক্তার বিউটি। তাদের পরিবেশনায় ধ্রুপদি রাগ ও বাংলা লোকসংগীতের মেলবন্ধন ঘটে।

পরে অচিন পাখি কালচারাল একাডেমির শিক্ষার্থীরা সমবেত কণ্ঠে লালনগীতি পরিবেশন করেন। লালনের কালজয়ী গানগুলোতে বাংলার সংগীত ঐতিহ্য এবং সমকালীন সমাজে তার গানের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সংগীত পরিবেশন করে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ব্যান্ড লালন। নিগার সুলতানা সুমির নেতৃত্বে দলটি লালনগীতির ঐতিহ্যবাহী সুরের সঙ্গে সমকালীন সংগীতের সমন্বয় ঘটায়। তাদের পরিবেশনায় লালনের গান নতুন প্রজন্মের মধ্যেও কীভাবে আবেদন তৈরি করছে, তা ফুটে ওঠে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মাদ সোহেল মঞ্জুর। এ ছাড়া সংসদ সদস্য, জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন ধারার শিল্পী, সাবেক রাষ্ট্রদূত, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের তরুণ প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, গবেষক, গণমাধ্যম সম্পাদক ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। সাবেক আইসিসিআর বৃত্তিপ্রাপ্ত তরুণদেরও এতে অংশগ্রহণ ছিল।

লালন সন্ধ্যা ২০২৬ তাই শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছিল না, ঐতিহ্যবাহী সংগীতের সঙ্গে আধুনিক সংগীতের সংযোগ ঘটানোর একটি প্রয়াসও ছিল। বাউল গান, বাঁশির সুর, সমবেত লালনগীতি আর সমকালীন পরিবেশনা মিলিয়ে সন্ধ্যাটি বাংলার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সামনে নিয়ে আসে। আর লালনের মানবতাবাদী বার্তা, বিভাজনের ঊর্ধ্বে মানুষের কথা, আজকের সময়েও যে সমানভাবে জরুরি, সেই কথাটাই অনুষ্ঠানজুড়ে বারবার ফিরে এসেছে।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার
← সব খবর দেখুন