কুসুম নামটি শুনলেই অনেকের মনে দুটি আলাদা ধারাবাহিকের ছবি ভেসে ওঠে। একটি পুরোনো, স্টার জলসার কুসুম দোলা। আরেকটি নতুন, জি বাংলার কুসুম। এই গাইডের প্রথম কাজই সেই বিভ্রান্তি ভাঙা। এই লেখাটি নতুন জি বাংলার কুসুম নিয়ে, পুরোনো কুসুম দোলা নিয়ে নয়। দুটি ধারাবাহিকের গল্প, চরিত্র, চ্যানেল আর সময় আলাদা। নামের মিল দেখে একটিকে আরেকটির সঙ্গে গুলিয়ে ফেললে গল্প বোঝা যাবে না, আর দেখার সময়ও ভুল হবে। তাই শুরুতে এই পার্থক্যটা মনে রাখুন।
নতুন কুসুম জি বাংলার ধারাবাহিক। চ্যানেলের আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এটি প্রযোজনা করেছে অ্যাক্রোপলিস এন্টারটেইনমেন্ট। ধারাবাহিকটি প্রথম সম্প্রচার শুরু হয় ২০২৫ সালের ৪ জুন, বিকেল সাড়ে ৫টায়, শুধু জি বাংলায়। এই তথ্যটি ২০২৫ সালের ২৭ মে প্রকাশিত জি বাংলার প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আছে। অর্থাৎ কুসুম কোনো নতুন ঘোষণা নয়, এটি ২০২৫ সালের জুন থেকে চলা একটি ধারাবাহিক। যারা এখন থেকে দেখা শুরু করতে চান, তাদের জন্য এই গাইডটি শুরু থেকে গল্প, চরিত্র আর দেখার সময় গুছিয়ে দেবে।
গল্পের কেন্দ্রে আছে কুসুম, একটি গ্রামের মেয়ে। প্রেস বিজ্ঞপ্তির ভাষায়, কুসুম স্বাধীনচেতা, আবেগপ্রবণ এবং সোনার মতো মনের অধিকারী। সে আত্ম আবিষ্কার, ভালোবাসা আর বদলে যাওয়ার যাত্রায় বের হয়। তার সামনে আসে গাঙ্গুলি পরিবারের কঠোর নিয়মে বাঁধা বড় বাড়ি। গ্রামীণ বাংলার আবেগ আর শহুরে পরিবারের বদলে যাওয়া মূল্যবোধের মাঝখানে দাঁড়িয়ে কুসুমের গল্প এগোয়। এই দ্বন্দ্বই ধারাবাহিকের মূল টান, নিয়ম বনাম আবেগ, ঐতিহ্য বনাম পরিবর্তন।
কুসুম চরিত্রে অভিনয় করছেন তানিষ্কা তিওয়ারি। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই ধারাবাহিকের মাধ্যমে প্রধান চরিত্রে তার অভিষেক হয়েছে। অর্থাৎ কুসুমের মুখ হিসেবে দর্শক একজন নতুন মুখকে পেয়েছেন। নতুন মুখের সঙ্গে দর্শকের সম্পর্ক গড়ে উঠতে সময় লাগে, কিন্তু কুসুমের চরিত্রের সরলতা আর সাহস সেই সম্পর্ক তৈরিতে সাহায্য করেছে। যারা তানিষ্কাকে প্রথমবার দেখছেন, তাদের জন্য কুসুম চরিত্রটাই তার পরিচয়।
গল্পের আরেকটি প্রধান স্তম্ভ ইন্দ্রানী গাঙ্গুলি, যাকে অনেকে বড়মা বলে চেনেন। এই চরিত্রে আছেন অঞ্জনা বসু। প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ইন্দ্রানী একজন নিজের চেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত, কর্তৃত্বপূর্ণ পরিবারপ্রধান, যার কঠোর নিয়ম তার জগৎকে সংজ্ঞায়িত করে। শুধু বাড়ি নয়, ব্যবসাও চলে তার কথায়, এমনটাই প্রোমো দেখে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। ইন্দ্রানীর চরিত্রটি একদিকে কঠিন, অন্যদিকে পরিবারের ভার বহনকারী। কুসুমের আবেগ আর ইন্দ্রানীর নিয়মের সংঘাত থেকেই ধারাবাহিকের অনেক নাটক তৈরি হয়।
তৃতীয় প্রধান চরিত্র আয়ুষ্মান গাঙ্গুলি, চরিত্রে সপ্তর্ষি রায়। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আয়ুষ্মানকে বর্ণনা করা হয়েছে ইন্দ্রানীর সহানুভূতিশীল ছেলে হিসেবে, যিনি ঐতিহ্য আর পরিবর্তনের মাঝখানে সেতু হয়ে ওঠেন। অর্থাৎ গল্পে আয়ুষ্মান শুধু নায়ক নন, তিনি দুটি জগতের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ। কুসুমের সঙ্গে তার সম্পর্ক, পরিবারের নিয়মের প্রতি তার অবস্থান, আর মায়ের প্রতি তার শ্রদ্ধা, এই তিনটি টান একসঙ্গে গল্পকে এগিয়ে নেয়। প্রোমোতে ইন্দ্রানীর দুই ছেলের কথা এসেছে, একজন অতি বাধ্য, আরেকজন একেবারেই উচ্ছৃঙ্খল, পার্টিতে মজে থাকতে ভালোবাসে। এই দুই ভাইয়ের বিপরীত স্বভাব পরিবারের ভেতরের উত্তেজনা আরও বাড়ায়।
প্রোমোর একটি দৃশ্য দর্শকের মনে বিশেষভাবে গেঁথে আছে, রান্নাঘরের দৃশ্য। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় প্রোমোতে দেখা যায়, রান্নাঘরে রান্না করছে কুসুম। গ্লাভস পরে আটা মাখতে দেখে সে বলে ওঠে, এভাবে আটা মাখলে ভালোবাসা থাকে না, সে হাত দিয়েই আটা মেখে দেয়। অন্যদিকে বড়মার জন্য খাবার টেবিলে অপেক্ষা করে গোটা পরিবার। তিনি এসে সবার সঙ্গে বসেন। এই বাড়ির নিয়ম, তিনি আগে খাবার মুখে দেবেন, তারপর সবাই খাবে। রান্নাঘরে বড়মার খাবার নিতে এলে কুসুম সেটা গুছিয়ে দেয়, কিন্তু নিজে খাবার চেখে দেখে ডালে নুন কম হয়েছে, সঙ্গে সঙ্গে একটু নুন হাতে নিয়ে ছুটে যায়, ডালে মিশিয়ে দেয়। এই ছোট দৃশ্যটিতে পুরো ধারাবাহিকের মূল প্রশ্ন লুকিয়ে আছে, কড়া নিয়মের বেড়াজালে চলা ইন্দ্রানীর সংসারে কুসুম কীভাবে লক্ষ্মীশ্রী আনবে।
কুসুম কি অন্য কোনো ধারাবাহিকের রিমেক, এই প্রশ্নও প্রোমো আসার পর উঠেছে। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় প্রোমো দেখে নেটপাড়ার একাংশ দাবি করেছে, ধারাবাহিকটি নাকি হিন্দি মেগা বসুধার রিমেক। এই দাবিটি দর্শকদের আলোচনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, চ্যানেলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হিসেবে নয়। জি বাংলার প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কুসুমকে দুটি বিপরীত পরিবারের গল্প, ভালোবাসা, পরিবার ও ঐতিহ্যের কাহিনি হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে, রিমেক হিসেবে নয়। তাই এই গাইডে রিমেক দাবিটিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে লেখা হয়নি, দর্শক আলোচনা হিসেবে রাখা হয়েছে। চ্যানেল আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানালে সেটাই চূড়ান্ত হবে।
এবার দেখার সময়ের দিকে আসা যাক, কারণ এখানেই সবচেয়ে বেশি ভুল হয়। শুরুতে, ৪ জুন ২০২৫ থেকে, কুসুম দেখা যেত বিকেল সাড়ে ৫টায়। পরে সময় বদলে যায়। আনন্দবাজার পত্রিকার ১ জুন ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্নপূর্ণার লক্ষ্মীরা ধারাবাহিকের জন্য সময় বদলে গেল কুসুমের। এটি এরপর থেকে দেখা যাবে সন্ধ্যা ৬টায়। আর সাত পাকে বাঁধা আসবে সাড়ে ৫টার স্লটে। অর্থাৎ জুন ২০২৬ সালের আপডেট অনুযায়ী কুসুমের সময় সন্ধ্যা ৬টা। যারা পুরোনো সময় ধরে খুঁজছেন, তারা সাড়ে ৫টায় কুসুম পাবেন না। দেখার আগে চ্যানেলের বর্তমান শিডিউল মিলিয়ে নেওয়া ভালো, কারণ টিভি চ্যানেলের স্লট সময়ে সময়ে বদলাতে পারে।
কোথায় দেখবেন, এই প্রশ্নের উত্তর সহজ, জি বাংলা চ্যানেলে। ধারাবাহিকটি জি বাংলার নিজস্ব ধারাবাহিক, তাই টিভিতে জি বাংলা চ্যানেলেই এর সম্প্রচার হয়। টিভিতে দেখতে না পারলে চ্যানেলের অফিশিয়াল ডিজিটাল মাধ্যম বা শিডিউল পেজে পরবর্তী সম্প্রচারের সময় দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলো। এই গাইডে কোনো অনানুষ্ঠানিক স্ট্রিমিং লিংক, ডাউনলোড লিংক বা পাইরেটেড উপায় দেওয়া হয়নি। বৈধ উপায়ে দেখাই একমাত্র নিরাপদ উপায়, আর চ্যানেলের নিজস্ব মাধ্যমেই সঠিক সময় জানা যাবে।
এবার পুরোনো কুসুম দোলার সঙ্গে পার্থক্যটা আরও পরিষ্কার করে নেওয়া যাক। কুসুম দোলা স্টার জলসার ধারাবাহিক ছিল, ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত চলেছিল। এর প্রধান চরিত্রে ছিলেন মধুমিতা সরকার ও ঋষি কৌশিক। গল্পের কেন্দ্রে ছিল ইমন নামের একটি মেয়ে, যার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন ছিল। নতুন জি বাংলার কুসুমের সঙ্গে এই গল্পের কোনো সম্পর্ক নেই। চরিত্র, চ্যানেল, সময়, প্রযোজনা, সব আলাদা। শুধু নামের প্রথম অংশ মিলে যাওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়। তাই খোঁজ করার সময় কুসুম দোলা লিখে খুঁজলে নতুন কুসুমের তথ্য পাওয়া যাবে না, আর কুসুম লিখে খুঁজলে পুরোনো ধারাবাহিকের তথ্য চলে আসতে পারে। খোঁজার সময় জি বাংলা শব্দটি যোগ করলে বিভ্রান্তি অনেকটা কমবে।
কুসুমের নির্মাতাদের পরিচয়ও গল্প বোঝার জন্য জরুরি। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অ্যাক্রোপলিস এন্টারটেইনমেন্ট এর আগে বকুল কথা, রাশি, আমার দুর্গা এবং অগ্নিপরীক্ষার মতো ধারাবাহিক বানিয়েছে। অর্থাৎ এই প্রযোজনা সংস্থা বাংলা টেলিভিশনের পরিচিত নাম। জি বাংলার ব্যবসায়িক প্রধান নবনীতা চক্রবর্তীর বক্তব্য হিসেবে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন প্রতিভা পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি পরিচিত মুখদের সম্মান জানানোই চ্যানেলের লক্ষ্য। তানিষ্কার অভিষেক আর অঞ্জনা বসুর ফিরে আসা, এই দুটি বিষয় একসঙ্গে কুসুমের কাস্টিংয়ের বিশেষত্ব।
ধারাবাহিকটি কেন দর্শক দেখছেন, তার উত্তর গল্পের থিমে লুকিয়ে আছে। প্রথম থিম, গ্রাম আর শহরের মেলবন্ধন। কুসুম গ্রামের মেয়ে, গাঙ্গুলি পরিবার শহুরে, প্রভাবশালী, নিয়মকানুনে বাঁধা। দ্বিতীয় থিম, নারীর নিজের জায়গা খোঁজা। ইন্দ্রানী নিজের চেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত, কুসুম নিজের ভালোবাসা আর সততা দিয়ে জায়গা করে নিতে চায়। তৃতীয় থিম, পরিবারের ভেতরের ভালোবাসা ও শাসনের টানাপড়েন। কঠোর নিয়মের আড়ালে পরিবারের প্রতি যত্ন, আর আবেগের আড়ালে নিয়ম ভাঙার সাহস, এই দুটি দিক একসঙ্গে গল্পকে মানবিক করে তোলে। এই থিমগুলো শুধু প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও প্রোমোর ভিত্তিতে বোঝা যায়, দৈনিক পর্বের প্রতিটি মোড় এই গাইডে দাবি করা হয়নি।
যারা এখন থেকে কুসুম দেখা শুরু করতে চান, তাদের জন্য কিছু ব্যবহারিক পরামর্শ দেওয়া হলো। প্রথমত, শুরু থেকে না দেখলেও মূল তিনটি চরিত্র মনে রাখুন, কুসুম, ইন্দ্রানী, আয়ুষ্মান। দ্বিতীয়ত, গাঙ্গুলি বাড়ির নিয়মগুলো খেয়াল করুন, কারণ অনেক দৃশ্যের অর্থ সেই নিয়মের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে। তৃতীয়ত, কুসুমের ছোট ছোট কাজ, যেমন রান্নাঘরের দৃশ্য, সেগুলোকে শুধু ঘরোয়া দৃশ্য ভাববেন না, সেগুলো চরিত্রের স্বভাব প্রকাশ করে। চতুর্থত, পুরোনো কুসুম দোলার গল্প মনে করে নতুন কুসুমের গল্প আন্দাজ করবেন না, দুটি সম্পূর্ণ আলাদা। পঞ্চমত, দেখার সময় নিয়ে সন্দেহ থাকলে জি বাংলার বর্তমান শিডিউল দেখে নিন, পুরোনো সময় ধরে বসে থাকবেন না।
প্রশ্নোত্তর আকারে মূল তথ্যগুলো আবার গুছিয়ে দেওয়া হলো। কুসুম কোন চ্যানেলের ধারাবাহিক, জি বাংলা। কবে শুরু হয়েছিল, ৪ জুন ২০২৫। শুরুতে কখন দেখা যেত, বিকেল সাড়ে ৫টায়। জুন ২০২৬ সালের আপডেট অনুযায়ী কখন দেখা যায়, সন্ধ্যা ৬টায়। প্রধান চরিত্রে কারা, তানিষ্কা তিওয়ারি কুসুম, অঞ্জনা বসু ইন্দ্রানী গাঙ্গুলি, সপ্তর্ষি রায় আয়ুষ্মান গাঙ্গুলি। প্রযোজনা কাদের, অ্যাক্রোপলিস এন্টারটেইনমেন্ট। কুসুম দোলা কি একই ধারাবাহিক, না, সেটি স্টার জলসার পুরোনো আলাদা ধারাবাহিক। কুসুম কি বসুধার রিমেক, সে বিষয়ে চ্যানেলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি, রিমেক দাবিটি শুধু দর্শক আলোচনা।
এই গাইডের সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট করে দেওয়া ভালো। এই লেখাটি জি বাংলার আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তি, আনন্দবাজারের স্লট আপডেট এবং হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার প্রোমো প্রতিবেদনের ভিত্তিতে লেখা হয়েছে। দৈনিক পর্বের বিস্তারিত কাহিনি, আগামী পর্বে কী হবে, বা কোনো চরিত্রের ভবিষ্যৎ মোড় নিয়ে এখানে কোনো দাবি করা হয়নি, কারণ সেগুলো অফিশিয়াল প্রোমো বা যাচাই করা প্রতিবেদন ছাড়া লেখা যাবে না। যদি চ্যানেল নতুন প্রোমো প্রকাশ করে বা সময় আবার বদলায়, তাহলে এই গাইড আপডেট করা হবে। ততদিন পর্যন্ত এই গাইডটিকে কুসুম শুরুর মূল রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।
সবশেষে একটি কথা। কুসুমের গল্প আসলে একটি মেয়ের নিজের মতো করে বাঁচার গল্প, আর একটি পরিবারের নিয়মের ভেতরে ভালোবাসা খুঁজে পাওয়ার গল্প। গ্রামের সরলতা আর শহরের কঠোর নিয়মের সংঘাত থেকে যে আবেগ তৈরি হয়, সেটাই দর্শককে ধারাবাহিকের সঙ্গে বেঁধে রাখে। নামের বিভ্রান্তি দূরে সরিয়ে, সঠিক চ্যানেল আর সঠিক সময়ে দেখলে কুসুমের গল্পটি অনেক বেশি পরিষ্কারভাবে উপভোগ করা যাবে।
