দুর্গাপূজার আবহে ফেসবুকে একসারি ছবি শেয়ার করে আলোচনায় অভিনেত্রী জয়া আহসান। লাল বেনারসি, সোনালি জরির ঝলক আর গলায় নজরকাড়া ভারী চোকারে সাজা ছবিগুলোতে তাঁকে দেখা গেছে প্রতিমা তৈরির ব্যস্ততা আর কুমোরটুলির আবহে। ছবির সঙ্গে ক্যাপশনে জয়া লিখেছেন, 'দেবী সত্তা কোনো অলংকার নয়, এক অন্তর্নিহিত শক্তি.. আমার ভেতরের আলোয়..আমার ভেতরের দুর্গা…'। এই ছবি আর বার্তা ঘিরে ভক্তদের মধ্যে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া, প্রশংসার পাশাপাশি এসেছে ছোটখাটো আপত্তিও।
রাইজিংবিডির প্রতিবেদন অনুযায়ী (প্রকাশ ২১ অক্টোবর ২০২৬), জয়ার সাজে ঐতিহ্য আর আধুনিকতার মেলবন্ধন আলাদা করে নজর কেড়েছে। লাল শাড়ির সঙ্গে সোনালি নকশার সমন্বয়, শাড়ির আধুনিক ড্রেপিং, খোলা কাঁধ আর একই রঙের টাইট-ফিট পায়জামায় এসেছে সমসাময়িক ফ্যাশনের ছোঁয়া। গলায় ভারী সোনালি চোকারই ছিল প্রধান অলংকার, আর সংযত মেকআপ সাজটিকে দিয়েছে পরিমিত সৌন্দর্য। মন্দিরের পটভূমিতে তোলা ছবিগুলোতে ঐতিহ্যবাহী সাজ ও ভক্তিমূলক পরিবেশ একসঙ্গে ধরা পড়েছে।
ছবিগুলো ঘিরে ভক্তদের প্রতিক্রিয়া বেশ বৈচিত্র্যময়। এক ভক্ত লিখেছেন, 'বাহবা, একেবারে দেবীর মতোই লাগছে।' আরেকজনের মন্তব্য, 'তোমার কস্টিউম সেন্স অসাধারণ। এজন্যই তুমি জয়া আহসান। সাধারণের মধ্য থেকে অসাধারণ চরিত্র। তোমার জন্য সব সময় শুভকামনা।' তবে প্রশংসার পাশাপাশি ছোটখাটো আপত্তিও এসেছে। এক ভক্তের মন্তব্য, 'এখানে জুতো না পরলেই ভালো লাগতো।' একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, জয়ার সবকিছুই তাঁর ভালো লাগে বলেই এমন পরামর্শ দিয়েছেন। অনেকে ছবির পোস্টে জানিয়েছেন শারদীয়ার শুভেচ্ছা ও বিজয়ার শুভকামনা।
দুই বাংলার এই জনপ্রিয় অভিনেত্রীকে অভিনয়ে সর্বশেষ দেখা গেছে কৌশিক গাঙ্গুলির 'আজও অর্ধাঙ্গিনী'তে। সিনেমাটি ভারতে মুক্তির পর ভূয়সী প্রশংসা পেয়েছে, আর বাংলাদেশেও ১০০ দিনের মাইলফলক পার করেছে (যা নিয়ে বিনোদন ঝলকেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে)। এ ছাড়া টেলিভিশনের জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো 'সেরা রাঁধুনী'র নবম সিজনে পূর্ণিমার জায়গায় বিচারকের আসনে বসছেন জয়া, বিজয়ী পাবেন ১৫ লাখ টাকা পুরস্কার। অর্থাৎ বড় পর্দার পাশাপাশি ছোট পর্দার মঞ্চেও সক্রিয় তিনি।
এবারের শারদীয় দুর্গোৎসবে তারকাদের ঐতিহ্যবাহী সাজের ধারা বেশ চোখে পড়ার মতো। বিজয়া দশমীতে মল্লিকবাড়ির পুজোয় সাবেকি সাজে সিঁদুরখেলায় মেতে উঠেছিলেন কোয়েল মল্লিক, ঢাকেশ্বরী মন্দিরে সিঁদুর খেলায় অংশ নেন মেহের আফরোজ শাওনও। জয়ার দুর্গারূপী ছবি সেই উৎসব-মৌসুমেরই আরেকটি ঝলক, তবে অন্যদের উৎসব-আনন্দের ছবির সঙ্গে তাঁর ছবির পার্থক্য ক্যাপশনের দার্শনিক বার্তায়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় জয়ার উপস্থিতি অবশ্য নতুন কিছু নয়। যুগান্তরের এক প্রতিবেদনে (সেপ্টেম্বর ২০২৬) উল্লেখ আছে, জয়া আহসান প্রায়ই দুই বাংলার ভক্ত-অনুরাগীদের সঙ্গে নিজের নানা মুহূর্তের ভালোমন্দ শেয়ার করে নেন। কিছুদিন আগে 'আ স্মাইল আই ডিডন্ট প্ল্যান' ক্যাপশনে পোস্ট করা একটি ছবিও সাড়া ফেলেছিল নেটিজেনদের মধ্যে, অনেকে তাঁর এভারগ্রিন লুকের প্রশংসা করে লিখেছিলেন, 'চল্লিশের জয়া যেন ১৮-তে নেমে এসেছেন।' সেই ধারাবাহিকতায় এবারের দুর্গারূপী ছবিও তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া-সক্রিয়তারই অংশ।
এবারের দুর্গাপূজার মৌসুমে তারকাদের দেবী-সাজের ধারা বেশ জোরালো। এর আগে পরীমনির দুর্গা-রূপের ফটোশুট ভাইরাল হয়েছিল, এক ঘণ্টায় ৩৭ হাজার প্রতিক্রিয়া পেয়েছিল সেই পোস্ট, ভক্তরা মন্তব্য করেছিলেন 'পুরো দুর্গা'। জয়ার ছবিও সেই ধারারই অংশ, তবে তাঁর ক্ষেত্রে আলোচনার কেন্দ্রে শুধু সাজ নয়, ক্যাপশনের বার্তাটিও। 'দেবী সত্তা কোনো অলংকার নয়, এক অন্তর্নিহিত শক্তি', এই লাইনটি ভক্তদের অনেকের কাছেই নারীর আত্মবিশ্বাসের বার্তা হিসেবে ধরা দিয়েছে।
কেন এই খবর গুরুত্বপূর্ণ? কারণ জয়া আহসানের মতো তারকার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট এখন শুধু ব্যক্তিগত মুহূর্ত নয়, ফ্যাশন আর সংস্কৃতির আলোচনার কেন্দ্রও। রাইজিংবিডি তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, জয়ার এই সাজ থেকে পুজোর ফ্যাশনে অনুপ্রেরণা নিতে পারেন অনেকেই: উজ্জ্বল রঙের শাড়ি, একটি আকর্ষণীয় গয়না আর হালকা মেকআপেই তৈরি হতে পারে নিজস্ব স্টাইল। অর্থাৎ একটা সেলিব্রিটি পোস্ট এখানে পুজোর ফ্যাশন-সংস্কৃতির ট্রেন্ডসেটার হিসেবেও কাজ করছে।
এরপর কী? জয়ার ভক্তদের নজর এখন 'সেরা রাঁধুনী' সিজন ৯-এর দিকে, যেখানে বিচারক হিসেবে তাঁকে নতুন ভূমিকায় দেখা যাবে। পাশাপাশি তাঁর পরের সিনেমার ঘোষণার অপেক্ষাতেও আছেন অনেকে। দুর্গারূপী এই ছবি নিয়ে আলোচনা হয়তো কয়েক দিনেই থেমে যাবে, কিন্তু ক্যাপশনে দেওয়া 'আমার ভেতরের দুর্গা' বার্তাটি যে ভক্তদের মনে রয়ে যাবে, মন্তব্যের ধরন দেখে তা বোঝা যাচ্ছে।
