বিনোদন ঝলক
সিনেমা

৫৪০ কোটির ঝড়ের মধ্যেই ধাক্কা: কানাডায় বন্ধ 'জেলার ২'-এর প্রদর্শনী, কারণ ডিজিটাল চাবি-জটিলতা

বিনোদন ঝলক ডেস্ক২২ অক্টোবর ২০২৬4 মিনিটে পড়ুন
বিমানবন্দরে রজনীকান্ত
রজনীকান্ত অভিনীত 'জেলার ২' মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই ৫৪০ কোটি রুপির বেশি আয় করেছে (ছবি: Bollywood Hungama, CC BY 3.0)

মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই বিশ্বব্যাপী ৫৪০ কোটি রুপির বেশি আয় করা 'জেলার ২' এখন বক্স অফিসের সবচেয়ে বড় ঝড়ের নাম। অথচ এই সাফল্যের মধ্যেই ছবিটি খেল বড় এক ধাক্কা। কানাডার ইয়র্ক সিনেমাস ঘোষণা দিয়েছে, বুধবার (২১ অক্টোবর) থেকে তাদের প্রেক্ষাগৃহে 'জেলার ২'-এর প্রদর্শনী বন্ধ থাকবে। কারণ হিসেবে তারা দেখিয়েছে পরিবেশক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কারিগরি জটিলতা। অর্থাৎ, ছবি চলছে রমরমা, কিন্তু কানাডার দর্শকরা আপাতত হলে গিয়ে রজনীকান্তকে দেখতে পাবেন না।

ইয়র্ক সিনেমাস বুধবার ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানায়, ২১ অক্টোবর থেকে 'জেলার ২'-এর প্রদর্শনী আর চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাদের ভাষ্য, ইয়র্ক সিনেমাসের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা পরিস্থিতির কারণে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। বিবৃতিতে প্রেক্ষাগৃহ কর্তৃপক্ষ জানায়, সিনেমাটি প্রদর্শনের জন্য প্রয়োজনীয় সব আর্থিক দায়বদ্ধতা ও অর্থ পরিশোধ তারা করেছে। কিন্তু উত্তর আমেরিকায় সিনেমাটির পরিবেশক শ্লোকা এন্টারটেইনমেন্টস ও প্রত্যঙ্গিরা সিনেমাসের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় বৈধ 'কি ডেলিভারি মেসেজ' (কেডিএম) পাওয়া যায়নি। এ ক্ষেত্রে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সান পিকচার্সের অনুমোদনও প্রয়োজন ছিল।

কেডিএম বা কি ডেলিভারি মেসেজ হলো ডিজিটাল সিনেমা প্রদর্শনের একটি নিরাপত্তা-চাবি। আধুনিক ডিজিটাল প্রেক্ষাগৃহে ছবি চালাতে হলে পরিবেশকের কাছ থেকে এই এনক্রিপ্টেড চাবি পেতে হয়, যা নির্দিষ্ট সময় ও নির্দিষ্ট প্রজেক্টরের জন্য বৈধ থাকে। বৈধ কেডিএম ছাড়া কারিগরিভাবে সিনেমাটির প্রদর্শনী চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলে স্পষ্ট জানিয়েছে ইয়র্ক সিনেমাস। অর্থাৎ, টাকা পরিশোধ করা সত্ত্বেও শুধু এই ডিজিটাল চাবির অভাবে প্রদর্শনী বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে প্রেক্ষাগৃহ কর্তৃপক্ষ।

বিবৃতিতে ইয়র্ক সিনেমাস আরও জানায়, সমস্যাটি সমাধান করে প্রদর্শনী চালু রাখার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় অনুমোদন মেলেনি। দর্শকদের অসুবিধার জন্য তারা দুঃখও প্রকাশ করেছে। তবে বুধবার পর্যন্ত পরিবেশক প্রতিষ্ঠান শ্লোকা এন্টারটেইনমেন্টস, প্রত্যঙ্গিরা সিনেমাস কিংবা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সান পিকচার্সের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। ফলে কানাডায় ছবিটির প্রদর্শনী কবে আবার শুরু হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

ঘটনার প্রেক্ষাপট আরও চমকপ্রদ, কারণ 'জেলার ২' এই মুহূর্তে ইতিহাস গড়ার পথে। নেলসন দিলীপকুমার পরিচালিত সিনেমাটি গত ১৫ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। মুক্তির ছয় দিনের মাথায় ছবিটি বিশ্বব্যাপী প্রায় ৫৪০ কোটি রুপি আয় করে ২০২৩ সালের প্রথম পর্ব 'জেলার'-এর রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম। রজনীকান্ত এতে ফিরেছেন 'টাইগার' মুথুভেল পান্ডিয়ান চরিত্রে। অন্যান্য চরিত্রে আছেন রম্যা কৃষ্ণন, যোগী বাবু, মিরনা, শিবরাজকুমার, মোহনলাল ও জ্যাকি শ্রফ। প্রযোজনা করেছে সান পিকচার্স, সংগীত পরিচালনায় অনিরুদ্ধ রবিচন্দ্রন।

বক্স অফিসের এমন সাফল্যের মধ্যেই পরিবেশক-প্রদর্শক দ্বন্দ্বে প্রদর্শনী বন্ধের ঘটনা ভারতীয় চলচ্চিত্র বাণিজ্যে নতুন নয়, তবে 'জেলার ২'-এর মতো মেগা-রিলিজের ক্ষেত্রে এটি বিরল। সাধারণত বড় ছবির ওভারসিজ পরিবেশনা নিয়ে একাধিক স্তরের চুক্তি থাকে: প্রযোজক থেকে আঞ্চলিক পরিবেশক, সেখান থেকে স্থানীয় প্রদর্শক। এই শৃঙ্খলের কোনো এক স্তরে অনুমোদন আটকে গেলেই কেডিএম ইস্যু হয় না, ফলে প্রদর্শনী থমকে যায়। কানাডায় তামিল প্রবাসী দর্শকদের মধ্যে 'জেলার ২' নিয়ে উন্মাদনা ছিল তুঙ্গে, টিকিটের চাহিদাও ছিল বেশি। এমন সময়ে প্রদর্শনী বন্ধ হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন অনেক দর্শক।

কেন এই খবর গুরুত্বপূর্ণ, তার কয়েকটি কারণ আছে। প্রথমত, এটি দেখিয়ে দেয় বক্স অফিসের সাফল্য আর মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা সবসময় এক নয়; কোটি কোটি রুপি আয় করা ছবিও প্রশাসনিক জটিলতায় দর্শকের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে। দ্বিতীয়ত, প্রবাসী বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয় দর্শকদের কাছেও এই খবর প্রাসঙ্গিক, কারণ কানাডায় বড় দক্ষিণ এশীয় প্রবাসী সম্প্রদায় থাকে এবং তারা নিয়মিত বড় রিলিজ হলে গিয়ে দেখেন। তৃতীয়ত, সান পিকচার্সের মতো বড় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের ছবিতেও এমন ঘটনা ঘটা ওভারসিজ পরিবেশনা-ব্যবস্থার দুর্বলতা তুলে ধরে।

এরপর কী হবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। ইয়র্ক সিনেমাস বলেছে, তারা প্রদর্শনী চালিয়ে যেতে চায় এবং সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু শ্লোকা এন্টারটেইনমেন্টস ও প্রত্যঙ্গিরা সিনেমাসের কাছ থেকে বৈধ কেডিএম না পাওয়া পর্যন্ত কিছুই করার নেই তাদের। সান পিকচার্স বা পরিবেশকদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো বক্তব্য না আসায় ধোঁয়াশা কাটছে না। দর্শকদের এখন অপেক্ষা করতে হবে, কানাডায় 'জেলার ২' আবার কবে পর্দায় ফিরবে। এদিকে বিশ্বব্যাপী ছবিটির ঝড়ো আয় অব্যাহত আছে, ফলে এই ধাক্কা ছবির সামগ্রিক বাণিজ্যে বড় প্রভাব ফেলবে না বলেই মনে করছেন ট্রেড বিশ্লেষকরা।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার