খায়রুল বাসার ও নাজনীন নীহা, ছোট পর্দার এই দুই পরিচিত মুখ এত দিন একসঙ্গে পর্দায় আসেননি। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটেছে মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের একক নাটক ইনস্টাগ্রাম দিয়ে। নাটকটি ৪ নভেম্বর ২০২৬ চ্যানেল আইয়ে বিকেল ৩টা ৫ মিনিটে প্রচার হয়েছে। এই গাইডে আছে নাটকটি কী নিয়ে, কারা অভিনয় করেছেন, পরিচালক ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে যা জানা গেছে, টিভি প্রচারের পর কোথায় দেখা যাবে, আর কোন কোন তথ্য এখনো নিশ্চিত হয়নি।
এক নজরে ইনস্টাগ্রাম: এটি একটি একক নাটক, পরিচালক মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সিনেমাওয়ালা, কেন্দ্রীয় জুটি খায়রুল বাসার ও নাজনীন নীহা। টিভি প্রিমিয়ার হয়েছে ৪ নভেম্বর ২০২৬, চ্যানেল আইয়ে, বিকেল ৩টা ৫ মিনিটে। সহশিল্পী হিসেবে আছেন রোজী সিদ্দিকী, ড. এজাজুল ইসলাম, ফারুক আহমেদ, মাহমুদুল ইসলাম মিঠু, রাজু এবং ইসরাত অতিথিসহ আরও অনেকে। ইউটিউবে সিনেমাওয়ালা চ্যানেলে আসার কথা আগের প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, কিন্তু সুনির্দিষ্ট তারিখ ৪ নভেম্বরের সমকাল প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।
নাম শুনে প্রথমেই মনে হতে পারে এটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাপ নিয়ে কোনো গল্প। আসলে নামটি এখানে একটি ইঙ্গিতের মতো কাজ করে। নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীদের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, গল্পের কেন্দ্রে আছে একটি গ্রাম, গ্রামের মানুষ, তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক, আর সেই জীবনের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব। অর্থাৎ অ্যাপটি গল্পের একমাত্র বিষয় নয়, বরং গ্রামের জীবনকে বোঝার একটি জানালা হিসেবে এসেছে।
সমকালের ৪ নভেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিচালক রাজ একটি গ্রামকে রূপক অর্থে ব্যবহার করে দেখাতে চেয়েছেন কীভাবে সামাজিক মাধ্যমের হাতছানি মানুষকে অবক্ষয়ের দিকে টেনে নিয়ে যেতে পারে। এই বক্তব্য গল্পের গম্ভীর দিকটি তুলে ধরে। একই প্রতিবেদনে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সিনেমাওয়ালার কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়েছে, হাস্যরসাত্মক ঘটনার মধ্য দিয়ে সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে একটি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। ফলে নাটকটি শুধু সতর্কবার্তা নয়, হাসির মধ্য দিয়ে ভাবনার খোরাকও দিতে চায়।
খায়রুল বাসারের বর্ণনায় ইনস্টাগ্রাম একটি গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষদের নানা ঘটনা নিয়ে নির্মিত। তিনি একে গ্রামীণ জীবনের হৃদ্যতার গল্প বলেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই গল্প বিনোদনের পাশাপাশি দর্শককে বর্তমান বাস্তবতা নিয়ে কিছুটা হলেও ভাবাবে। এই দুটি কথা একসঙ্গে পড়লে গল্পের স্বর বোঝা যায়: একদিকে মানুষের আন্তরিক সহাবস্থান, অন্যদিকে সেই জীবনে নতুন মাধ্যমের ঢুকে পড়া।
নাজনীন নীহার বর্ণনায় আরও স্পষ্ট হয় গ্রামের মানুষের সরলতার দিকটি। তিনি জানিয়েছেন, এই নাটকে দেখা যাবে গ্রামের মানুষ কতটা সহজ সরল হয়। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কীভাবে ব্যবহার করা উচিত, সে বিষয়েও একটি চমৎকার বার্তা আছে বলে তিনি মনে করেন। অর্থাৎ গল্পটি দর্শককে শুধু চরিত্রের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয় না, দৈনন্দিন জীবনে মাধ্যম ব্যবহারের অভ্যাস নিয়েও প্রশ্ন তোলে।
গল্পের বিস্তারিত প্লট, চরিত্রগুলোর নাম, কে কোন চরিত্রে অভিনয় করেছেন, শেষে কী হয়, এসব তথ্য এখনো প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে বিস্তারিতভাবে দেওয়া হয়নি। এই গাইডে তাই চরিত্রের নাম বা প্লটের মোড় অনুমান করে লেখা হয়নি। নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীরা শুটিংয়ের সময়ও গল্পের বিস্তারিত জানাতে চাননি, কারণ কেন্দ্রীয় চরিত্র ও গল্পের গতি দর্শকের জন্য দেখার বিষয় হিসেবে রাখতে চেয়েছিলেন তাঁরা। দর্শক হিসেবে এটুকু জেনে দেখা ভালো যে নাটকটি গ্রাম, সম্পর্ক আর মাধ্যমের প্রভাব, এই তিনটি সূত্রে গাঁথা।
সময়রেখা দেখলে বোঝা যায় নাটকটি ধীরে ধীরে দর্শকের সামনে এসেছে। অক্টোবরের শেষ দিকে প্রথম খবর আসে যে বাসার ও নীহা প্রথমবার জুটি বাঁধছেন, শুটিং চলছে, আর নভেম্বরে সিনেমাওয়ালা ইউটিউব চ্যানেলে আসবে কাজটি। ২৫ অক্টোবর ঢাকা পোস্টে এই জুটির খবর বিস্তারিতভাবে আসে। এরপর ৪ নভেম্বর সমকালে জানানো হয় সেদিনই চ্যানেল আইয়ে বিকেল ৩টা ৫ মিনিটে প্রচার হতে যাচ্ছে নাটকটি। অর্থাৎ টিভি প্রচারই ছিল দর্শকের সামনে আসার প্রথম নিশ্চিত ধাপ, আর ইউটিউব মুক্তি সেই ধারাবাহিকতার পরের ধাপ হিসেবে আলোচিত হয়েছে।
প্রথম জুটির গল্পটি এই নাটকের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। সমকালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাসার ও নীহার পথচলা কয়েক বছর ধরে চললেও এত দিন তাঁদের একসঙ্গে কাজ করা হয়ে ওঠেনি। বাসার নিজেও জানিয়েছেন, নীহার সঙ্গে এর আগে কয়েকটি কাজ নিয়ে কথা হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেগুলো করা হয়নি। এই পটভূমি বুঝলে বোঝা যায় কেন ইনস্টাগ্রাম শুধু একটি নতুন নাটক নয়, দুই অভিনয়শিল্পীর দীর্ঘ অপেক্ষার পর একসঙ্গে আসার ঘটনাও বটে।
এই জুটি কীভাবে হলো, তার একটি মজার দিক জানিয়েছেন পরিচালক রাজ নিজে, ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদনে। রাজ জানিয়েছেন, এই কাজের জন্য নীহাকে ফোন করার পর সব শুনে নীহা নিজ থেকেই বাসারের নাম বলেছিলেন। নীহা বলেছিলেন, তিনি বাসারের সঙ্গে একটি কাজ করতে চান। রাজের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি মনে মনে আগেই পরিকল্পনা করে রেখেছিলেন যে বাসারের সঙ্গেই কাজটি হবে। তিনি গল্পটা বলে তারপর বাসারের কথা বলতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তার আগেই নীহা বাসারের কথা বলে ফেলেন। এই ঘটনা থেকে বোঝা যায়, জুটিটি শুধু কাস্টিংয়ের সিদ্ধান্ত নয়, অভিনেত্রীর নিজের আগ্রহ থেকেও তৈরি হয়েছে।
বাসারের চোখে নীহার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা ছিল স্বস্তিদায়ক ও অনুপ্রেরণাদায়ক। তিনি জানিয়েছেন, এটি তাঁদের প্রথম কাজ হলেও কখনো মনে হয়নি এই প্রথম একসঙ্গে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াচ্ছেন। নীহা গল্প উপস্থাপন ও চরিত্র রূপায়ণে যেমন মনোযোগী ছিলেন, তেমনি সহশিল্পীদেরও দারুণভাবে সহযোগিতা করেছেন। বাসারের মতে, একজন মানুষ নিজের কাজে মনোযোগী থাকার পাশাপাশি অন্যদের পাশে দাঁড়াতে পারেন, সেই বিষয়টি তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছে। এই মূল্যায়ন নতুন জুটির কাজের পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা দেয়।
নীহার চোখে বাসারের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাও ছিল দারুণ। তিনি জানিয়েছেন, বাসারের মতো আলোচিত অভিনেতার সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করা ছিল আনন্দের। একইভাবে রাজের পরিচালনায় ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো ছিল স্বস্তিদায়ক, কারণ গল্প ও চরিত্র উপস্থাপন থেকে শুরু করে কাজের প্রতিটি মুহূর্তে পরিচালক সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন। নীহার বিশ্বাস, গ্রামের মানুষদের নিয়ে যে গল্পটি পরিচালক পর্দায় তুলে ধরতে চেয়েছেন, তা পরিকল্পনামাফিক করতে পেরেছেন। তাই নাটকটি অনেকের মনে ছাপ ফেলবে বলে তাঁদের বিশ্বাস।
কাস্টের তালিকা দেখলে বোঝা যায় এটি শুধু দুই তারকার গল্প নয়, একটি গ্রামের সমষ্টিগত ছবি। কেন্দ্রে বাসার ও নীহা থাকলেও পাশে আছেন রোজী সিদ্দিকী, ড. এজাজুল ইসলাম, ফারুক আহমেদ, মাহমুদুল ইসলাম মিঠু, রাজু এবং ইসরাত অতিথি। সমকালের প্রতিবেদনে রাজু পর্যন্ত নাম উল্লেখ আছে, আর ঢাকা পোস্ট ও প্রযোজনা সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে ইসরাত অতিথির নামও আছে। এই তালিকা থেকে বোঝা যায়, গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের গল্প বলতে পরিচালক একটি বড় ও অভিজ্ঞ দলকে ব্যবহার করেছেন।
পরিচালক মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের সাম্প্রতিক কাজের ধারা বুঝলে ইনস্টাগ্রামের অবস্থান আরও পরিষ্কার হয়। তিনি পারিবারিক গল্পের নির্মাতা হিসেবে পরিচিত, আর সিনেমাওয়ালা ও চ্যানেল আই, এই দুটি মাধ্যমেই তাঁর কাজ দর্শকের কাছে পৌঁছায়। তাঁর আগের ধারাবাহিক এটা আমাদেরই গল্প দর্শকের মধ্যে সাড়া ফেলেছিল। এরপর তিনি ফিরে আসার গল্প নিয়ে আসেন, যেখানে প্রতি বুধ ও বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় সিনেমাওয়ালা ইউটিউব চ্যানেলে নতুন পর্ব আসে, পাশাপাশি চ্যানেল আইতেও প্রচার হয়। ইনস্টাগ্রামও একই ধারায় প্রথমে চ্যানেল আইয়ে প্রচার হয়েছে, তারপর ইউটিউবের কথা আলোচিত হয়েছে।
নীহার সঙ্গে রাজের আগের কাজের সম্পর্কও এখানে উল্লেখযোগ্য। প্রযোজনা সংশ্লিষ্ট সিনেমাওয়ালা নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজের সঙ্গে এর আগে অনুরাগ এবং সহযাত্রী ইউটিউব ফিল্মে অভিনয় করেছেন নীহা। এই তথ্যটি প্রযোজনা সংশ্লিষ্ট সূত্রের, অনুমোদিত সংবাদমাধ্যমের নয়, তাই এখানে উৎসটি স্পষ্ট করে দেওয়া হলো। এর অর্থ, ইনস্টাগ্রামে রাজ ও নীহার জুটি সম্পূর্ণ নতুন নয়, পরিচালক ও অভিনেত্রীর মধ্যে আগের কাজের বোঝাপড়া ছিল। সেই বোঝাপড়া নতুন জুটির ক্ষেত্রে বাসারের সঙ্গে কাজকে সহজ করেছে বলে নীহার বক্তব্য থেকে বোঝা যায়।
লেখক কৃতিত্ব নিয়ে একটি পার্থক্য পাঠকের জানা দরকার, কারণ দুটি প্রতিবেদনে দুই রকম তথ্য আছে। সমকালের ৪ নভেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইনস্টাগ্রাম নাটকের কাহিনি লিখেছেন পরিচালক রাজ নিজে। অন্যদিকে প্রযোজনা সংশ্লিষ্ট সিনেমাওয়ালা নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউটিউব ফিল্মটি লিখেছেন সিদ্দিক আহমেদ। এই দুটি তথ্য একসঙ্গে মেলানো যায় না, তাই এই গাইডে লেখক হিসেবে কোনো একটি নামকে চূড়ান্ত বলে ধরা হয়নি। পাঠককে সতর্ক করে দেওয়া হচ্ছে যে গল্পের মূল ভাবনা ও রচনার কৃতিত্ব নিয়ে প্রতিবেদনগুলোতে ভিন্ন তথ্য আছে।
শুটিং সম্পর্কে প্রযোজনা সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার অদূরে পুবাইলে পাঁচ দিন শুটিং করেছেন বাসার ও নীহা। নীহা নিজেও শুটিংয়ের পাঁচ দিনের কথা উল্লেখ করেছেন। এই তথ্যটি প্রযোজনা সংশ্লিষ্ট সূত্রের, তাই এখানে সেভাবেই দেওয়া হলো। পুবাইলের মতো জায়গায় শুটিং হওয়া গ্রামের আবহ তৈরিতে সাহায্য করেছে বলে ধারণা করা যায়, তবে লোকেশন নিয়ে এর বেশি বিস্তারিত প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
খায়রুল বাসারের ক্যারিয়ার বুঝলে বোঝা যায় কেন তিনি এই ধরনের গল্পনির্ভর কাজ বেছে নেন। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগে পড়েছেন, ক্যারিয়ারের শুরুটা গান দিয়ে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি অভিনয়ের দিকে আসেন, ২০১২ সাল থেকে অভিনয়ের প্রস্তুতি শুরু করেন, আর ২০১৭ সালে প্রথম নাটকে নাম লেখান। দীর্ঘ সময় তাঁকে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করতে হয়েছে, ধীরে ধীরে তিনি নিজের জায়গা তৈরি করেন।
বাসারের মোড় ঘোরানো কাজ হিসেবে প্রথম আলো পুনরাবৃত্তি নাটকের কথা উল্লেখ করেছে, যা পরিচালনা করেন সালেহ সোবহান অনীম। এরপর তিনি অস্থির সময়ে স্বস্তির গল্প প্রকল্পের কথা হবে তো, ক্লোজআপ কাছে আসার গল্প দিয়ে দর্শকের ভালোবাসা পান। তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে আছে ইতি তোমারই ঢাকা, ঊনপঞ্চাশ বাতাস, মাকড়সা, ডার্ক সাইড অব ঢাকা, বিলাপ, মহানগর ও কাজলরেখা। এই তালিকা থেকে বোঝা যায়, তিনি টেলিভিশন, ওয়েব সিরিজ ও সিনেমা, তিন মাধ্যমেই গল্পনির্ভর চরিত্রে কাজ করেছেন।
বাসার নিজেকে নায়ক হিসেবে নয়, অভিনেতা হিসেবে দেখতে পছন্দ করেন বলে প্রথম আলোকে জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তিনি নায়ক হওয়ার চিন্তা করেননি, অভিনেতা হতে চেয়েছেন সব সময়। এই মনোভাবের কারণেই তিনি গল্পনির্ভর কাজ করার চেষ্টা করেন। ইনস্টাগ্রামের ক্ষেত্রে এই মনোভাব প্রাসঙ্গিক, কারণ এখানে তাঁর চরিত্রকে কেন্দ্রীয় বলা হয়েছে, কিন্তু গল্পের মূল শক্তি গ্রামের সমষ্টি ও বার্তার মধ্যে। অর্থাৎ তারকা হিসেবে নয়, গল্পের অংশ হিসেবে তিনি এখানে আছেন।
নাজনীন নীহার ক্যারিয়ারের গল্পটিও এই জুটির প্রেক্ষাপট বোঝার জন্য জরুরি। প্রথম আলোর ২৫ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিন বছর আগে জিয়াউল ফারুক অপূর্বর সঙ্গে নতুন মুখ নীহাকে নিয়ে প্রথম নাটক নির্মাণ করেন জাকারিয়া সৌখিন। মনদুয়ারি নামের সেই নাটক বদলে দেয় নীহার ভাগ্য। এরপর অপূর্ব ও নীহা জুটি ধীরে ধীরে দর্শকের পছন্দের জুটি হয়ে ওঠে। ইনস্টাগ্রামে এসে নীহা সেই পরিচিত জুটির বাইরে বাসারের সঙ্গে প্রথমবার কাজ করছেন, যা তাঁর ক্যারিয়ারে একটি নতুন অধ্যায়।
নীহার সাম্প্রতিক সাফল্যের একটি বড় উদাহরণ ভালো আছো তো নাটক। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিএমভি ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পাওয়া এই নাটক প্রচারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ৫০ লাখ দর্শক দেখেছেন, দুই দিনে ভিউ ৮০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। এটি অপূর্ব ও নীহা জুটির চতুর্থ নাটক ছিল, আর জাকারিয়া সৌখিনের পরিচালনায় তাঁদের পঞ্চম নাটক দূরের মানুষ তখন মুক্তির অপেক্ষায় ছিল। এই সাফল্যের পরপরই ইনস্টাগ্রামে বাসারের সঙ্গে তাঁর প্রথম জুটি আসা দর্শকের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দেয়।
এই দুই অভিনয়শিল্পীর বর্তমান ব্যস্ততা দেখলেও জুটির সময়োপযোগিতা বোঝা যায়। বাসার একদিকে ফিরে আসার গল্প ধারাবাহিকে আদিল চরিত্রে অভিনয় করছেন, অন্যদিকে ইনস্টাগ্রামে কেন্দ্রীয় চরিত্রে এসেছেন। নীহা একদিকে ভালো আছো তো দিয়ে আলোচনায়, অন্যদিকে দূরের মানুষের মুক্তির অপেক্ষায়। সমকালের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাসার ও নীহা দুজনেই আরও বেশ কিছু ভিন্ন ধাঁচের গল্প ও চরিত্রে একক ও ধারাবাহিক নাটকের কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন, যেগুলো আগামী কয়েক মাসে একে একে প্রচার হবে।
কেন এই নাটকটি দেখবেন, সেই প্রশ্নের উত্তর কয়েকটি স্তরে দেওয়া যায়। প্রথমত, নতুন জুটির রসায়ন দেখার কৌতূহল। দ্বিতীয়ত, গ্রামের গল্পের মধ্য দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ে ভাবনা। তৃতীয়ত, রাজের পারিবারিক ও সামাজিক গল্প বলার ধারা, যা তাঁর আগের ধারাবাহিকগুলোতে দর্শক দেখেছেন। চতুর্থত, একটি বড় ও অভিজ্ঞ সহশিল্পী দল, যাঁদের উপস্থিতি গ্রামের ছবিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে। এই চারটি কারণ একসঙ্গে মিলে ইনস্টাগ্রামকে শুধু একটি প্রচারিত নাটক নয়, একটি আলোচনার বিষয় করে তোলে।
বাসারের চরিত্র সম্পর্কে আগের প্রতিবেদনগুলোতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত আছে। তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁর অভিনীত চরিত্রটি বিশেষ বা কেন্দ্রীয়, আর এই চরিত্র ধরেই গল্প এগিয়ে যাবে। তাই মুক্তির আগে তিনি চরিত্র নিয়ে বিস্তারিত বলতে চাননি। এই তথ্য থেকে বোঝা যায়, গল্পের গতি বুঝতে হলে বাসারের চরিত্রের সিদ্ধান্ত ও সম্পর্কের দিকে নজর রাখতে হবে। তবে চরিত্রের নাম বা পেশা প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি, তাই এখানে তা অনুমান করা হয়নি।
কোথায় দেখবেন, এই প্রশ্নের সৎ উত্তরটি দুটি ভাগে দিতে হয়। প্রথম ভাগ নিশ্চিত: টিভি প্রচার হয়ে গেছে, ৪ নভেম্বর ২০২৬ চ্যানেল আইয়ে বিকেল ৩টা ৫ মিনিটে। যাঁরা সেই সময় দেখেছেন, তাঁদের জন্য নাটকটি ইতিমধ্যে দেখা হয়ে গেছে। দ্বিতীয় ভাগ প্রত্যাশিত, কিন্তু তারিখ নিশ্চিত নয়: ইউটিউবে সিনেমাওয়ালা চ্যানেলে আসার কথা অক্টোবরের প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, নভেম্বর মাসের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু সুনির্দিষ্ট দিন ৪ নভেম্বরের সমকাল প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি। পুনঃপ্রচারের কোনো নিশ্চিত সময়সূচি প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
ইউটিউব মুক্তির তারিখ নিয়ে একটি সতর্কতা এখানে জরুরি। সামাজিক মাধ্যমে ১৪ নভেম্বরের একটি দাবি ঘুরতে দেখা গেছে বলে আগের সংক্ষিপ্ত বিবরণে উল্লেখ ছিল, কিন্তু অনুমোদিত প্রতিবেদনে সেই তারিখের নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। তাই এই গাইডে ১৪ নভেম্বরকে ইউটিউব মুক্তির তারিখ হিসেবে লেখা হয়নি। পাঠককে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, সিনেমাওয়ালার অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলেই নাটকটির আপলোডের জন্য অপেক্ষা করুন, আর অফিসিয়াল চ্যানেল ছাড়া অন্য কোনো আপলোডকে আসল মুক্তি হিসেবে ধরে নেবেন না।
বৈধভাবে দেখার উপায় সম্পর্কে স্পষ্ট করে বলা যায়: টিভিতে চ্যানেল আইয়ের প্রচার ছিল বৈধ মাধ্যম, আর অনলাইনে সিনেমাওয়ালার অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলই বৈধ মাধ্যম হবে। অনানুষ্ঠানিক রি আপলোড, কাটা অংশের ভিডিও বা সন্দেহজনক লিংক থেকে দেখার চেষ্টা করা উচিত নয়। এই গাইডে কোনো অনানুষ্ঠানিক লিংক দেওয়া হয়নি, কারণ বৈধ উৎস ছাড়া অন্য কোনো উপায়ের প্রচার করা এই সাইটের নীতির বাইরে।
এবার প্রশ্নোত্তর পর্বে আসা যাক, কারণ পাঠকেরা এই নাটক নিয়ে যে প্রশ্নগুলো সবচেয়ে বেশি করেন, সেগুলোর উত্তর এক জায়গায় থাকা দরকার। প্রথম প্রশ্ন: ইনস্টাগ্রাম কি সিনেমা, নাকি নাটক। উত্তর: প্রতিবেদনগুলোতে দুটি শব্দই ব্যবহার হয়েছে। সমকাল একে একক নাটক বলেছে, আর অক্টোবরের প্রতিবেদনগুলো একে ইউটিউব ফিল্ম বলেছে। বাস্তবে এটি একই কাজের দুটি জানালা: টিভিতে একক নাটক হিসেবে প্রচার, আর ইউটিউবে ফিল্ম হিসেবে আসার কথা। তাই শব্দ নিয়ে বিভ্রান্ত না হয়ে কাজটিকে একটি একক গল্প হিসেবে দেখাই সঠিক।
দ্বিতীয় প্রশ্ন: ইউটিউবে কবে আসবে। উত্তর: অক্টোবরের প্রতিবেদনে নভেম্বর মাসের কথা বলা হয়েছে, সিনেমাওয়ালা ইউটিউব চ্যানেলের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু সুনির্দিষ্ট দিন এখনো অনুমোদিত প্রতিবেদনে নিশ্চিত হয়নি। তাই নভেম্বর মাসটিকে একটি সময়সীমা হিসেবে ধরা যায়, কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট দিনকে নিশ্চিত তারিখ হিসেবে ধরা যায় না। অফিসিয়াল চ্যানেলে আপলোড হলেই সেটি হবে নিশ্চিত মুক্তি।
তৃতীয় প্রশ্ন: গল্পে কে কোন চরিত্র। উত্তর: প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে চরিত্রের নাম নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়নি। শুধু অভিনয়শিল্পীদের নাম দেওয়া হয়েছে। তাই এই গাইডে চরিত্রের নাম লেখা হয়নি। নাটকটি দেখার পর চরিত্রগুলোর নাম ও সম্পর্ক নিজে বুঝে নেওয়াই হবে সঠিক উপায়, অনুমানের ওপর ভিত্তি করে লেখা নাম পড়ে বিভ্রান্ত হওয়া উচিত নয়।
চতুর্থ প্রশ্ন: এটি কি ইনস্টাগ্রাম অ্যাপ নিয়ে গল্প। উত্তর: পুরোপুরি নয়। নামটি অ্যাপের কথা মনে করিয়ে দেয় ঠিকই, কিন্তু গল্পের কেন্দ্রে আছে একটি গ্রাম ও তার মানুষ। অ্যাপ বা সামাজিক মাধ্যমের প্রভাব গল্পের একটি সূত্র, কিন্তু গ্রামের হৃদ্যতা, সম্পর্ক ও সহাবস্থানই গল্পের মূল ভিত্তি। তাই শুধু অ্যাপ নিয়ে প্রযুক্তিগত গল্প আশা করলে ভুল হবে।
পঞ্চম প্রশ্ন: এর কি দ্বিতীয় পর্ব বা সিক্যুয়েল আসবে। উত্তর: এ বিষয়ে কোনো ঘোষণা প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। এটি একটি একক নাটক হিসেবে তৈরি হয়েছে, তাই এর ধারাবাহিক পর্ব আশা করা ঠিক নয়। তবে বাসার ও নীহার আলাদা আলাদা নতুন কাজ আগামী কয়েক মাসে আসবে বলে সমকালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাই এই জুটির ভবিষ্যৎ কাজের জন্য অপেক্ষা করা যায়, কিন্তু ইনস্টাগ্রামের সিক্যুয়েলের জন্য নয়।
এরপর কী, এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে দুই অভিনয়শিল্পীর আগামী কাজের দিকে তাকাতে হয়। বাসারের ক্ষেত্রে ফিরে আসার গল্প ধারাবাহিক চলমান, সেখানে তিনি আদিল চরিত্রে আছেন। নীহার ক্ষেত্রে দূরের মানুষ নাটকটি মুক্তির অপেক্ষায় ছিল বলে প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এছাড়া দুজনেই নতুন একক ও ধারাবাহিক নাটকের কাজ নিয়ে ব্যস্ত বলে সমকাল জানিয়েছে। অর্থাৎ ইনস্টাগ্রাম একটি বিচ্ছিন্ন কাজ নয়, দুই শিল্পীর ব্যস্ত সময়ের একটি অংশ।
এই গাইডটি কেন মাস পরেও কাজে লাগবে, তার কারণ হলো এটি শুধু একটি প্রচারের খবর নয়। এখানে জুটির ইতিহাস, গল্পের বিষয়, কাস্ট, পরিচালকের ধারা, দেখার উপায় আর অজানা তথ্যের সতর্কতা, সবকিছু একসঙ্গে আছে। ভবিষ্যতে যখন ইউটিউবে নাটকটি আসবে, তখন নতুন দর্শক এই গাইড পড়ে বুঝতে পারবেন কাজটি কী নিয়ে, কেন এটি আলোচিত হয়েছিল, আর কোথায় বৈধভাবে দেখা যাবে। টিভি প্রচারের তারিখ এখানে একটি স্থায়ী তথ্য হিসেবে থাকবে, কিন্তু গাইডের মূল্য তারিখের ওপর নির্ভরশীল নয়।
শেষ কথা হিসেবে বলা যায়, ইনস্টাগ্রাম এমন একটি কাজ যেখানে নতুন জুটি, গ্রামের গল্প আর সামাজিক মাধ্যমের বার্তা একসঙ্গে মিলেছে। বাসার ও নীহার প্রথমবার একসঙ্গে আসা দর্শকের কৌতূহল তৈরি করেছে ঠিকই, কিন্তু নাটকটির স্থায়ী আকর্ষণ তার বিষয়ে: মানুষের আন্তরিকতা বনাম পর্দার হাতছানি। এই দ্বন্দ্ব আজকের দর্শকের নিজের জীবনের সঙ্গেও মেলে, তাই গল্পটি শুধু একটি গ্রামের গল্প হয়ে থাকে না, হয়ে ওঠে সবার গল্প। ইউটিউবে অফিসিয়াল মুক্তির জন্য অপেক্ষা করুন, আর টিভি প্রচার মিস করে থাকলে সিনেমাওয়ালার অফিসিয়াল চ্যানেলের দিকেই নজর রাখুন।
