প্রচারের শুরু থেকেই দর্শকমহলে আলোচনা তৈরি করেছে মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত নতুন ধারাবাহিক ‘ফিরে আসার গল্প’। আটটি পর্ব প্রচারের পর ধারাবাহিকটির গল্প, চরিত্র ও নানা দৃশ্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। কেউ পর্বের প্রতিটি দৃশ্য ধরে নিজের মতো করে গল্পের ব্যাখ্যা দিচ্ছেন, আবার কেউ চরিত্রগুলোর আচরণ ও সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে তুলছেন নানা প্রশ্ন। এবার সেই প্রশ্নগুলোর জবাব দিলেন নির্মাতা নিজেই।
দর্শকের প্রশ্নগুলো বেশ নির্দিষ্ট। যেমন, সম্পর্কের বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার আগেই নুরজাহান কেন আদিলকে জড়িয়ে ধরল? আয়েশাকে কেন নুরজাহানকে স্বর্ণের বালা দিতে হলো? রুকাইয়া চরিত্রে দীপা খন্দকারের ভিন্নধর্মী উপস্থিতি নিয়েও রয়েছে নানা প্রতিক্রিয়া। এমনকি সুপার গ্লু কেন বিক্রি হলো না, সেই খুঁটিনাটি নিয়েও মন্তব্য এসেছে।
এই প্রশ্নগুলোর জবাবে রাজ বলেছেন, সব প্রশ্নের উত্তর আস্তে আস্তে সিরিজের পরবর্তী পর্বগুলোতে পাওয়া যাবে। কেন বালা দেওয়া হয়েছে, কেন মিঠু আপা কান্না করছেন, সবকিছুর উত্তরই সামনে আসবে। তাঁর এই আশ্বাসের অর্থ, এখন যা রহস্য মনে হচ্ছে, তা গল্পেরই অংশ, ভুল নয়।
সুপার গ্লু প্রসঙ্গে নির্মাতা একটি মজার যুক্তিও দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এখন পর্যন্ত আট পর্বে তিনি মাত্র ছয় দিনের ঘটনা দেখিয়েছেন। সুপার গ্লু এমন কোনো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নয়, যা প্রতিটি দোকানে প্রতিদিনই বিক্রি হবে। আশপাশের কোনো দোকানে খোঁজ নিলেও বিষয়টি বোঝা যাবে। তবে দর্শকরা এত মনোযোগ দিয়ে নাটকটি দেখছেন, ছোট ছোট বিষয়ও খেয়াল করছেন, এজন্য তিনি বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
গল্পের গতি নিয়ে সমালোচনার জবাবও দিয়েছেন রাজ। তিনি জানিয়েছেন, আটটি পর্বে ছয় দিনের গল্প দেখানো হয়েছে, কিন্তু এই আটটি পর্ব প্রকাশ করতে সময় লেগেছে প্রায় এক মাস। তাই অনেকেই হয়তো ভাবছেন, এক মাসে গল্পে তেমন কোনো পরিবর্তন বা অগ্রগতি দেখা গেল না কেন। তাঁর ব্যাখ্যা, একটি গল্পের ভিত তৈরি করতে, চরিত্রগুলোকে দর্শকের কাছে পরিচিত করে তুলতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হয়। কারণ, এখন গল্পটি যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, সেখান থেকে ধীরে ধীরে অন্যদিকে মোড় নেবে।
দর্শকের প্রতিক্রিয়াকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন নির্মাতা। তিনি বলেছেন, যারা গল্পের প্রতিটি বিষয় এত নিখুঁতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, তাঁদের প্রতি তিনি সত্যিই কৃতজ্ঞ। আর যারা সিরিজটিকে স্লো বলছেন, তাঁদেরও ধন্যবাদ। ভালোবাসা দিচ্ছেন যারা, পাশে থাকছেন যারা, আবার ভুলগুলো ধরিয়ে দিয়ে সমালোচনা করছেন যারা, প্রতিটি প্রতিক্রিয়াই তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ভালোবাসা ও গঠনমূলক সমালোচনাই আরও ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা বলে জানিয়েছেন রাজ।
ধারাবাহিকটির চরিত্রগুলো একে একে দর্শকের নজর কেড়েছে। আদিল চরিত্রে খায়রুল বাসার, নুরজাহান চরিত্রে তানজিম সাইয়ারা তটিনী, ওসমান চরিত্রে জাহিদ হাসান, সুলতান চরিত্রে শহীদুজ্জামান সেলিম, আয়েশা চরিত্রে মনিরা আক্তার মিঠু, সিকান্দার চরিত্রে ফায়জুল ইয়ামিন ও রুকাইয়া চরিত্রে দীপা খন্দকার অভিনয় করছেন। আরও আছেন ডা. এজাজুল ইসলাম, মাহমুদুল ইসলাম মিঠু, অদিতি জামান স্নেহা, মুকিত জাকারিয়া, এমএনইউ রাজু ও ডিকন নূর। এই ধারাবাহিকের মাধ্যমে প্রায় ১৩ বছর পর আবারও একই নাটকে অভিনয় করছেন দুই শক্তিমান অভিনেতা জাহিদ হাসান ও শহীদুজ্জামান সেলিম।
কেউ কেউ নির্মাতা রাজের আগের ধারাবাহিক ‘এটা আমাদেরই গল্প’-এর প্রসঙ্গও টানছেন। যদিও শুটিং শুরুর সময় নির্মাতা স্পষ্ট করেছিলেন, ‘ফিরে আসার গল্প’-এর সঙ্গে আগের ধারাবাহিকটির কোনো মিল নেই। দুটিই পরিবারকেন্দ্রিক গল্প হলেও কাহিনি ও উপস্থাপনায় রয়েছে ভিন্নতা।
দর্শক আগ্রহের প্রমাণ মিলেছে ভিউ সংখ্যাতেও। এর আগে জানা গিয়েছিল, সপ্তম পর্ব প্রচারের চার ঘণ্টারও কম সময়ে ২০ লাখের বেশি দর্শক তা দেখেছেন। সিনেমাওয়ালা ইউটিউব চ্যানেলে নাটকটি নিয়ে প্রায় চার হাজার মন্তব্য জমা পড়েছে, যেখানে গল্পের পাশাপাশি নির্মাণশৈলী ও অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন দর্শকেরা।
‘ফিরে আসার গল্প’ চ্যানেল আইতে প্রচারের পাশাপাশি সপ্তাহের প্রতি বুধ ও বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রকাশিত হচ্ছে সিনেমাওয়ালা ইউটিউব চ্যানেলে। নির্মাতার আশ্বাস অনুযায়ী, পরের পর্বগুলোতেই খুলতে শুরু করবে এখনকার রহস্যগুলো। নুরজাহানের বালা, আদিলের সঙ্গে তার সম্পর্ক, রুকাইয়ার ভূমিকা, সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে ধারাবাহিকের সামনের পর্বে।
