বাংলাদেশের প্রতিদিনের বিনোদন পোর্টাল
বিনোদন ঝলক

দেশি-বিদেশি নাটক, সিনেমা ও সিরিজের প্রতিদিনের বিনোদন খবর

ইউটিউব

ফিরে আসার গল্প সম্পূর্ণ গাইড: আদিল-নুরজাহান-সিকান্দারের গল্প, কাস্ট, পর্বের সময়সূচি আর কোথায় দেখবেন

বিনোদন ঝলক ডেস্ক৬ নভেম্বর ২০২৬12 মিনিটে পড়ুন
ফিরে আসার গল্প সম্পূর্ণ গাইডের থাম্বনেইল
ফিরে আসার গল্প: গল্প, কাস্ট, পর্বের সময়সূচি আর কোথায় দেখবেন (ছবি: বিনোদন ঝলক)

বাংলাদেশের ইউটিউব দর্শকের আলোচনার কেন্দ্রে এখন একটি নাম, ফিরে আসার গল্প। মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের পরিচালনায় ধারাবাহিকটি চ্যানেল আইতে প্রচারের পাশাপাশি সিনেমাওয়ালা ইউটিউব চ্যানেলে আসছে, আর প্রতিটি পর্ব ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নানা বিশ্লেষণ আর তর্ক। কেউ পর্বের প্রতিটি দৃশ্য ধরে নিজের মতো করে গল্পের ব্যাখ্যা দিচ্ছেন, কেউ চরিত্রগুলোর সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। এই গাইডে ধারাবাহিকটি সম্পর্কে এখন পর্যন্ত যাচাই করা সব তথ্য এক জায়গায় সাজানো হলো: গল্পটা কী, কারা অভিনয় করছেন, নতুন পর্ব কবে আসে, কোথায় দেখবেন, আর দর্শকের সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলোর উত্তর নির্মাতা নিজে কী দিয়েছেন।

গল্পের কেন্দ্রে একটি পরিবার, আর সেই পরিবারকে ঘিরে সম্পর্কের জটিল সমীকরণ। আদিল, নুরজাহান আর সিকান্দার, এই তিনজনকে ঘিরে গড়ে উঠেছে গল্পের মূল টান। আদিলের চরিত্রে অভিনয় করছেন খায়রুল বাসার, নুরজাহানের চরিত্রে তানজিম সাইয়ারা তটিনী, আর সিকান্দারের চরিত্রে ফায়জুল ইয়ামিন। তাদের পাশে আছেন ওসমান, সুলতান, আয়েশা আর রুকাইয়া, পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ ও নারী চরিত্রগুলো, যাদের প্রত্যেকের আচরণ আর সিদ্ধান্ত গল্পে নতুন মোড় আনছে। আট পর্ব পেরোনোর পর দর্শক এখন গল্পের প্রতিটি দৃশ্য আর চরিত্রের সম্পর্ক নিয়ে নিজেদের মধ্যে তর্কে মেতেছেন, বিশেষ করে কিছু রহস্যময় ঘটনা নিয়ে তৈরি হয়েছে বাড়তি কৌতূহল।

ধারাবাহিকটির একটি বৈশিষ্ট্য এর ধীর গতি, যা নিয়ে দর্শকের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন। নির্মাতা মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ নিজেই এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তার কথায়, আটটি পর্বে তিনি মাত্র ছয় দিনের ঘটনা দেখিয়েছেন, আর এই আটটি পর্ব প্রকাশ করতে সময় লেগেছে প্রায় এক মাস। তাই অনেক দর্শকের মনে হয়েছে, এক মাসে গল্পে তেমন অগ্রগতি দেখা গেল না কেন। রাজের যুক্তি, গল্পের ভিত তৈরি করতে আর চরিত্রগুলোকে দর্শকের কাছে পরিচিত করে তুলতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হয়, কারণ গল্প এখন যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, সেখান থেকে ধীরে ধীরে তা অন্যদিকে মোড় নেবে। যারা ধারাবাহিকটিকে ধীরগতির বলছেন, তাদেরও তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

দর্শকের প্রশ্নগুলো কিন্তু শুধু গতি নিয়ে নয়। কেউ জানতে চেয়েছেন, সম্পর্কের বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার আগেই নুরজাহান কেন আদিলকে জড়িয়ে ধরল। কেউ জানতে চেয়েছেন, আয়েশাকে কেন নুরজাহানকে স্বর্ণের বালা দিতে হলো। রুকাইয়া চরিত্রে দীপা খন্দকারের ভিন্নধর্মী উপস্থিতি নিয়েও রয়েছে নানা প্রতিক্রিয়া। এমনকি ছোট একটি বিষয়, সুপার গ্লু কেন বিক্রি হয়নি, তা নিয়েও কমেন্টে প্রশ্ন উঠেছে। নির্মাতার জবাব, সব প্রশ্নের উত্তর আস্তে আস্তে সিরিজের পরবর্তী পর্বগুলোতে পাওয়া যাবে। সুপার গ্লুর প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, সেটি এমন কোনো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নয়, যা প্রতিটি দোকানে প্রতিদিনই বিক্রি হবে। দর্শকদের এই মনোযোগের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেছেন, ছোট ছোট বিষয়ও খেয়াল করে দেখছেন বলে দর্শকদের বিশেষ ধন্যবাদ, কারণ দর্শকের এই মনোযোগ আর সম্পৃক্ততা একজন নির্মাতার কাছে অনেক।

চরিত্রগুলোর দিকে তাকালে বোঝা যায়, কেন এই ধারাবাহিক নিয়ে এত আলোচনা। আদিল গল্পের কেন্দ্রীয় পুরুষ চরিত্র, যার সঙ্গে নুরজাহানের সম্পর্ক ঘিরেই গল্পের বড় অংশ এগোচ্ছে। নুরজাহান তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি, যার সিদ্ধান্ত আর আচরণ নিয়ে দর্শকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তর্ক। সিকান্দার তৃতীয় কোণ, যার উপস্থিতি আদিল আর নুরজাহানের সম্পর্কের সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে। ওসমানের চরিত্রে জাহিদ হাসান আর সুলতানের চরিত্রে শহীদুজ্জামান সেলিম, পরিবারের দুই বয়োজ্যেষ্ঠ চরিত্র, যাদের অভিনয় নিয়ে দর্শকের প্রশংসা সবচেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছে। আয়েশার চরিত্রে মনিরা আক্তার মিঠু, যার কান্নার দৃশ্য আর বালা দেওয়ার ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রুকাইয়ার চরিত্রে দীপা খন্দকার একেবারে ভিন্ন রূপে হাজির হয়েছেন।

কাস্টের তালিকাটা বেশ লম্বা। খায়রুল বাসার, তানজিম সাইয়ারা তটিনী, জাহিদ হাসান, শহীদুজ্জামান সেলিম, মনিরা আক্তার মিঠু, দীপা খন্দকার, ডা. এজাজুল ইসলাম, মাহমুদুল ইসলাম মিঠু, অদিতি জামান স্নেহা, মুকিত জাকারিয়া, এমএনইউ রাজু ও ডিকন নূরসহ অনেকে অভিনয় করছেন। এই ধারাবাহিকের মাধ্যমে প্রায় ১৩ বছর পর আবারও একই নাটকে অভিনয় করছেন দুই শক্তিমান অভিনেতা জাহিদ হাসান ও শহীদুজ্জামান সেলিম, যা নিজেই দর্শকের কাছে বাড়তি আকর্ষণের কারণ। সিনেমাওয়ালার অফিশিয়াল পর্বের বিবরণে অভিনয়শিল্পী হিসেবে বাসার, তটিনী, ফায়জুল ইয়ামিন আর অদিতি জামান স্নেহার নাম বিশেষভাবে উল্লেখ আছে, আর পরিচালক হিসেবে মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের নাম দেওয়া আছে।

অনেক দর্শক ধারাবাহিকটির সঙ্গে নির্মাতার আগের ধারাবাহিক এটা আমাদেরই গল্পের প্রসঙ্গ টানছেন। তবে শুটিং শুরুর সময় নির্মাতা স্পষ্ট করেছিলেন, ফিরে আসার গল্পের সঙ্গে আগের ধারাবাহিকটির কোনো মিল নেই। দুটিই পরিবারকেন্দ্রিক গল্প হলেও কাহিনি ও উপস্থাপনায় রয়েছে ভিন্নতা। অর্থাৎ আগের ধারাবাহিক পছন্দ হলেও এই ধারাবাহিককে তার ধারাবাহিকতা বা পুনরাবৃত্তি ভাবার কারণ নেই, এটি সম্পূর্ণ আলাদা একটি গল্প।

নতুন পর্ব কবে আসে, সেটাই এখন দর্শকের সবচেয়ে জরুরি প্রশ্ন। চ্যানেল আইতে প্রচারের পাশাপাশি ফিরে আসার গল্প সপ্তাহের প্রতি বুধ ও বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রকাশিত হচ্ছে সিনেমাওয়ালা ইউটিউব চ্যানেলে। পর্ব ৯ এসেছিল ৪ নভেম্বর, আর পর্ব ১১ পর্যন্ত ইউটিউবে এসেছে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত। অর্থাৎ যারা পর্ব মিস করেছেন, তারা সিনেমাওয়ালা চ্যানেলে গিয়ে আগের সব পর্ব একসঙ্গে দেখে নিতে পারবেন। নতুন পর্বের জন্য বুধ ও বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে চ্যানেলটিতে চোখ রাখাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়।

একটি ভুল ধারণা এখানে পরিষ্কার করে দেওয়া জরুরি। কয়েকটি recap চ্যানেল পর্ব ১০-কে শেষ পর্ব বলছে, সেটি ভুল। পর্ব ১১ ইতিমধ্যে ইউটিউবে এসেছে, তাই ধারাবাহিকটি এখনো চলছে। যারা পর্ব ১০-কে শেষ ধরে গল্পের সমাপ্তি নিয়ে আলোচনা করছেন, তারা ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে আলোচনা করছেন। নতুন পর্ব আসা বন্ধ হয়নি, সপ্তাহে দুটি করে পর্ব আসার ধারাবাহিকতাই চলছে।

কোথায় দেখবেন, সেই প্রশ্নের উত্তর সহজ। ধারাবাহিকটি দেখা যায় দুই জায়গায়: চ্যানেল আইতে টেলিভিশনে, আর সিনেমাওয়ালা ইউটিউব চ্যানেলে। ইউটিউবে দেখার সুবিধা হলো, পর্বগুলো সেখানেই থেকে যায়, তাই যে কোনো সময় আগের পর্ব দেখে নেওয়া যায়, আর নতুন পর্ব এলে নোটিফিকেশনের মাধ্যমে জানা যায়। টেলিভিশনে দেখতে চাইলে চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠানসূচি মিলিয়ে নেওয়া ভালো। ইউটিউবে দেখা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে, কোনো সাবস্ক্রিপশন লাগে না, শুধু সিনেমাওয়ালা চ্যানেলটি খুঁজে পর্বটি চালিয়ে নিলেই হয়।

ধারাবাহিকটি কেন এত জনপ্রিয় হলো, তার উত্তর লুকিয়ে আছে ভিউয়ের সংখ্যায়। প্রথম পর্বই ৫৪ লাখের বেশি ভিউ পেয়েছিল, দ্বিতীয় পর্ব তিন ঘণ্টায় প্রায় ১০ লাখ ভিউ ছুঁয়েছিল। পর্ব ৭ চার ঘণ্টায় ২০ লাখ ভিউ পেরিয়েছিল। পর্ব ৯-এর ক্ষেত্রে তটিনীর নিজের ফেসবুক পোস্ট অনুযায়ী, মাত্র ১ ঘণ্টা ৫৭ মিনিটে ১০ লাখের বেশি ভিউ এসেছিল। চ্যানেল আই অনলাইনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকাশের ছয় ঘণ্টায় পর্ব ৯ পেয়েছিল ২৫ লাখের বেশি ভিউ, আর মন্তব্য করেছিলেন তিন হাজারের বেশি দর্শক। পর্ব ৯ আর পর্ব ১০-এর ক্লিপগুলোও ২০ লাখের বেশি ভিউ পেয়েছে। এই সংখ্যাগুলো বলছে, ধারাবাহিকটি শুধু দেখা হচ্ছে না, দর্শক প্রতিটি পর্ব নিয়ে কথা বলছেন, ক্লিপ শেয়ার করছেন, কমেন্টে তর্ক করছেন। কমেন্টে সবচেয়ে বড় তর্ক, নুরজাহান শেষ পর্যন্ত কার সঙ্গে যাবে, আদিল নাকি সিকান্দার।

দর্শকের প্রতিক্রিয়ার আরেকটি দিক অভিনয়ের প্রশংসা। জাহিদ হাসান আর মনিরা মিঠুর অভিনয় নিয়ে কমেন্টে বারবার প্রশংসা শোনা যাচ্ছে, বিশেষ করে পর্ব ১০-এর কিছু দৃশ্য দর্শককে কাঁদিয়েছে বলে জানিয়েছেন অনেকে। অন্যদিকে অভিযোগও আছে: সপ্তাহে মাত্র দুটি পর্ব আসায় অনেক দর্শক অধৈর্য হয়ে উঠছেন, তারা আরও ঘন ঘন পর্ব চাইছেন। চরিত্র নিয়ে বিতর্কও কম নয়, তবে কমেন্টের তর্ককে গল্পের তথ্য হিসেবে ধরা যাবে না, সেগুলো দর্শকের মতামত, গল্পের নিশ্চিত ঘটনা নয়।

যারা এখনো দেখা শুরু করেননি, তাদের জন্য পরামর্শ হলো, প্রথম পর্ব থেকে ধারাবাহিকভাবে দেখা। কারণ গল্পটি ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে, আট পর্বে মাত্র ছয় দিনের ঘটনা দেখানো হয়েছে, তাই মাঝখান থেকে দেখলে চরিত্রগুলোর সম্পর্ক বোঝা কঠিন হবে। প্রথম পর্বগুলোতে পরিবারটির পরিচয়, প্রতিটি চরিত্রের অবস্থান আর তাদের মধ্যে টানাপোড়েনের ভিত তৈরি হয়েছে। সেই ভিত না জানলে পরের পর্বের মোড়গুলো পুরোপুরি ধরা যাবে না।

এরপর কী হবে, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো পুরোপুরি আসেনি, তবে নির্মাতার কথায় ইঙ্গিত আছে। তিনি বলেছেন, গল্পটি এখন যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, সেখান থেকে ধীরে ধীরে তা অন্যদিকে মোড় নেবে। দর্শকের প্রশ্নগুলোর উত্তর পরের পর্বগুলোতে আসবে, কেন বালা দেওয়া হলো, কেন মিঠু কাঁদছেন, সবকিছুর উত্তর সামনে আসবে বলে তিনি জানিয়েছেন। অর্থাৎ যারা ধৈর্য ধরে দেখছেন, তারা ধীরে ধীরে রহস্যগুলোর সমাধান পাবেন। নতুন পর্বের সঙ্গে সঙ্গে এই গাইডও হালনাগাদ করা হবে, যাতে গল্পের নতুন মোড় আর দর্শকের নতুন প্রশ্নের উত্তর এখানেই পাওয়া যায়।

পর্ব ধরে ধরে এগোনোর গল্পটাও বেশ চমকপ্রদ। প্রথম পর্বেই ৫৪ লাখের বেশি ভিউ এসেছিল, আর দ্বিতীয় পর্ব তিন ঘণ্টায় প্রায় ১০ লাখ ভিউ ছুঁয়েছিল। সেই শুরু থেকেই ধারাবাহিকটি ভিউয়ের দিক থেকে রেকর্ড গড়ছিল। পঞ্চম পর্ব এসেছিল ২১ অক্টোবর, সপ্তম পর্বে জাহিদ হাসান আর শহীদুজ্জামান সেলিমের একটি দৃশ্য দর্শককে কাঁদিয়েছিল, আর সেই পর্ব চার ঘণ্টায় ২০ লাখ ভিউ পেরিয়ে গিয়েছিল। অষ্টম পর্ব এসেছিল ২৯ অক্টোবর। নবম পর্বের পোস্টার তটিনী নিজের ফেসবুকে শেয়ার করেছিলেন, আর সেই পর্ব দুই ঘণ্টারও কম সময়ে ১০ লাখের বেশি ভিউ পেয়েছিল। তারপর পর্ব ১০ আর পর্ব ১১ এসেছে, আর প্রতিটি পর্বের ক্লিপ আলাদাভাবে লাখ লাখ ভিউ পাচ্ছে। এই ধারাবাহিকতা বলছে, দর্শক শুধু পর্ব দেখছেন না, তারা প্রতিটি পর্বের জন্য অপেক্ষা করছেন।

নির্মাতা মোস্তফা কামাল রাজের দৃষ্টিভঙ্গিটাও এখানে বোঝা জরুরি। তিনি দর্শকের বিশ্লেষণ আর সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন। যারা গল্পের প্রতিটি বিষয় নিখুঁতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, তাদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। যারা ধারাবাহিকটিকে ধীরগতির বলছেন, তাদেরও তিনি ধন্যবাদ দিয়েছেন। তার কথায়, দর্শকের ভালোবাসা আর গঠনমূলক সমালোচনা, দুটোই তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ, আর এই দুটোই আরও ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা। এই মনোভাবের কারণেই দর্শক মনে করছেন, তাদের কথা নির্মাতার কানে পৌঁছাচ্ছে। প্রশ্নের উত্তর পর্বে পর্বে আসবে বলে তিনি যে আশ্বাস দিয়েছেন, তাতে দর্শকের অপেক্ষাটাও অর্থবহ হয়েছে।

ইউটিউবে এই ধারাবাহিক এত চলার পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করছে। প্রথমত, দেখা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে, তাই যে কেউ যে কোনো সময় পর্ব দেখতে পারেন। দ্বিতীয়ত, পর্বগুলো সপ্তাহে দুই দিন আসে, ফলে প্রতিটি পর্ব নিয়ে আলোচনার সময় থাকে, আর সেই আলোচনাই পরের পর্বের জন্য আগ্রহ বাড়ায়। তৃতীয়ত, গল্পটি পারিবারিক, তাই দর্শক নিজের পরিবারের সঙ্গে মিল খুঁজে পান, আর চরিত্রগুলোর সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজেদের মধ্যে তর্ক করেন। চতুর্থত, কাস্টে এমন অভিনেতারা আছেন, যাদের নামেই দর্শক পর্ব খুলে দেখেন। জাহিদ হাসান আর শহীদুজ্জামান সেলিমের ১৩ বছর পর একসঙ্গে ফেরা, তটিনী আর বাসারের জুটি, দীপা খন্দকারের ভিন্নধর্মী চরিত্র, সব মিলিয়ে ধারাবাহিকটির প্রতি আগ্রহের কারণ অনেক।

গল্পে এখনো অনেক প্রশ্নের উত্তর বাকি, আর সেই অজানা প্রশ্নগুলোই দর্শককে আটকে রেখেছে। নুরজাহান শেষ পর্যন্ত কার সঙ্গে যাবে, আদিল নাকি সিকান্দার, এই প্রশ্নের উত্তর এখনো আসেনি। আয়েশা কেন নুরজাহানকে স্বর্ণের বালা দিলেন, সেই রহস্যেরও সমাধান হয়নি। রুকাইয়া চরিত্রের অতীত আর তার ভিন্নধর্মী আচরণের কারণ এখনো পরিষ্কার নয়। সুপার গ্লু বিক্রি না হওয়ার মতো ছোট বিষয়টিও দর্শকের নজরে এসেছে, আর নির্মাতা বলেছেন, এসবের উত্তর পরের পর্বগুলোতে আসবে। এই অজানা প্রশ্নগুলো গল্পের চালিকাশক্তি, আর যতদিন উত্তর না আসছে, ততদিন আলোচনা চলতেই থাকবে।

যারা নতুন করে দেখা শুরু করতে চান, তাদের জন্য সবচেয়ে ভালো উপায় হলো, সিনেমাওয়ালা ইউটিউব চ্যানেলে গিয়ে প্রথম পর্ব থেকে দেখা শুরু করা। পর্বগুলো সেখানেই সাজানো আছে, তাই ক্রমানুসারে দেখতে কোনো অসুবিধা হবে না। কমেন্ট পড়ার সময় একটা সতর্কতা মনে রাখা ভালো: অনেক কমেন্টে গল্পের অনুমান আর নিজের ব্যাখ্যা থাকে, সেগুলো পড়ে গল্পের মোড় নিয়ে আগাম ধারণা তৈরি হতে পারে, তাই নিজে পর্ব দেখে তারপর কমেন্ট পড়াই ভালো। আর যারা ইতিমধ্যে পর্ব দেখছেন, তারা বুধ ও বৃহস্পতিবার দুপুরে নতুন পর্বের জন্য চ্যানেলটিতে চোখ রাখতে পারেন।

টেলিভিশন আর ইউটিউব, দুই মাধ্যমের এই যৌথ প্রচারও ধারাবাহিকটির জনপ্রিয়তার একটি বড় কারণ। চ্যানেল আইতে প্রচারের ফলে ধারাবাহিকটি টেলিভিশন দর্শকের কাছে পৌঁছাচ্ছে, আর সিনেমাওয়ালা ইউটিউব চ্যানেলে আসার ফলে তরুণ দর্শক, প্রবাসী দর্শক আর যারা নির্দিষ্ট সময়ে টিভির সামনে বসতে পারেন না, তারাও পর্ব দেখতে পারছেন। ইউটিউবে পর্ব থেকে যাওয়ার কারণে কেউ পর্ব মিস করলেও পরে দেখে নিতে পারেন, আর সেই সুবিধাই আলোচনাকে ছড়িয়ে দিচ্ছে। একটি পর্ব ইউটিউবে আসার পর তার ক্লিপ আলাদাভাবে ছড়িয়ে পড়ছে, কমেন্টে তর্ক হচ্ছে, আর সেই তর্কই পরের পর্বের জন্য আগ্রহ তৈরি করছে। জাহিদ হাসান আর শহীদুজ্জামান সেলিমের মতো অভিনেতাদের প্রায় ১৩ বছর পর একসঙ্গে দেখার সুযোগও এই দুই মাধ্যমের দর্শককেই টানছে, কারণ টেলিভিশনের পুরোনো দর্শক যেমন তাদের চেনেন, তেমনি ইউটিউবের নতুন দর্শকও তাদের অভিনয় নতুন করে আবিষ্কার করছেন।

সবশেষে কয়েকটি প্রশ্নের সরাসরি উত্তর। ফিরে আসার গল্প কোথায় দেখবেন: সিনেমাওয়ালা ইউটিউব চ্যানেলে বিনামূল্যে, আর চ্যানেল আইতে টেলিভিশনে। নতুন পর্ব কবে আসে: প্রতি বুধ ও বৃহস্পতিবার দুপুরে। এখন পর্যন্ত কয়টি পর্ব এসেছে: পর্ব ১১ পর্যন্ত ইউটিউবে এসেছে। নুরজাহান কার সঙ্গে যাবে: এই প্রশ্নের উত্তর এখনো গল্পে আসেনি, কমেন্টের অনুমানকে উত্তর ধরা যাবে না। পর্ব ১০ কি শেষ পর্ব: না, পর্ব ১১ এসেছে, ধারাবাহিক চলছে। এটা আমাদেরই গল্পের সঙ্গে এর মিল আছে কি: না, নির্মাতা নিজেই জানিয়েছেন দুটি গল্প আলাদা। নতুন পর্ব এলে, গল্পের মোড় বদলালে বা নির্মাতা নতুন কিছু জানালে, এই গাইডেই সেই তথ্য যোগ করা হবে, তাই ফিরে আসার গল্প নিয়ে সর্বশেষ যাচাই করা তথ্য পেতে এই পাতাটি সংরক্ষণ করে রাখতে পারেন।

৬ নভেম্বর জাগো নিউজ জানিয়েছে, ফিরে আসার গল্প এখন শুধু বাংলাদেশের দর্শকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, কলকাতার দর্শকের কাছেও প্রশংসা পাচ্ছে। ইউটিউবে পর্বের মন্তব্যের ঘরে কলকাতা থেকে এক দর্শক লিখেছেন, তিনি কলকাতা থেকে ধারাবাহিকটি দেখেন, আর ভারতীয় সিরিয়ালের চেয়ে বাংলাদেশের নাটক ও ধারাবাহিক দেখতে তার বেশি ভালো লাগে, কারণ এখানে শেখার অনেক কিছু আছে। তার ভাষায়, ভারতীয় সিরিয়ালে পরিবার ও সংসারের মধ্যে অশান্তি তৈরি করা শেখানো হয়, যা বাস্তবসম্মত নয়।

শুধু ওই দর্শকই নন, ভারতের আরও অনেকে ধারাবাহিকটির গল্প ও অভিনয়ের প্রশংসা করছেন। মানসী রায় নামে আরেক দর্শক লিখেছেন, বাংলাদেশে এখন দারুণ সব কাজ হচ্ছে, ফিরে আসার গল্প যতই দেখছেন ততই মুগ্ধ হচ্ছেন, আর পরের পর্বগুলোর জন্য অপেক্ষা করছেন। এই মন্তব্যগুলো দর্শকের ব্যক্তিগত মতামত, কিন্তু সীমান্তের ওপারে ধারাবাহিকটির পৌঁছে যাওয়ার বিষয়টি জাগো নিউজের প্রতিবেদনেই উঠে এসেছে। মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত এই ধারাবাহিক যে বাংলাদেশের বাইরেও দর্শক পাচ্ছে, সেটা এর গল্পের আবেদনেরই প্রমাণ।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার
← সব খবর দেখুন