নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ফিরে পেয়েছেন নির্মাতা মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী। বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি নিজেই এ তথ্য জানান। অ্যাকাউন্ট ফিরে পাওয়ার খবরটি শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ভোরে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। ফারুকী অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবেও পরিচিত।
অ্যাকাউন্ট ফিরে পেয়ে দেওয়া পোস্টে ফারুকী লেখেন, সিনিয়র ফেসবুকার ইজ ব্যাক। একই পোস্টে তিনি তাদের ধন্যবাদ জানান, যারা তার অ্যাকাউন্ট নেওয়ার কাজটি করেছেন। তার এই ধন্যবাদ জানানোর ভঙ্গিতে ছিল স্পষ্ট কৌতুকের ছোঁয়া। কারণ, পরের লাইনেই তিনি জানিয়ে দেন, ফেসবুক ছাড়া কাটানো চার দিন তার কাজের জন্য কতটা ফলদায়ক হয়েছে।
ফারুকীর ভাষ্য অনুযায়ী, শুধু ফেসবুকে না থাকার কারণে গত চার দিনে তার শুটিং, প্রি প্রোডাকশন ও পোস্ট প্রোডাকশন, সব কাজের গতি দশ গুণ বেড়েছে। অর্থাৎ, যে মাধ্যমটিতে তিনি নিয়মিত সক্রিয় থাকেন, সেখান থেকে সাময়িক দূরে থাকাটাই তার কাজের গতি বাড়িয়ে দিয়েছে। নির্মাতার এই স্বীকারোক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আসক্তি আর কাজের চাপ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। অনেকেই বলছেন, অনলাইনে কম সময় কাটালে মনোযোগ আর কাজের গতি দুটোই বাড়ে, ফারুকীর অভিজ্ঞতা তারই একটা উদাহরণ।
পোস্টে ফারুকী আরও জানান, অনলাইনের উদ্ভট প্রচারণা না দেখার ফলে তার মানসিক স্বাস্থ্যের উপকার হয়েছে। পাশাপাশি পরিবারের সঙ্গে বিনা ঝামেলায় সময় কাটানোর অভ্যাসও ফিরে পেয়েছেন তিনি। এই দুটি পাওয়ার বিনিময়ে তিনি কী উপহার দেবেন, তা নিয়েও মজা করে প্রশ্ন তোলেন নির্মাতা। তার কথায় বোঝা যায়, চার দিনের এই বিরতি তাকে শুধু কাজের দিক থেকে নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে।
এর আগে গত শনিবার, ২৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় ফারুকী জানিয়েছিলেন, তিনি সকাল থেকে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারছেন না। সেদিন তিনি বলেন, ঘুম থেকে উঠে ফেসবুকে ঢোকার চেষ্টা করেন, কিন্তু তখন থেকে আর পারেননি। তার দাবি ছিল, হ্যাক করার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর অ্যাকাউন্টটি ডিঅ্যাক্টিভ করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বেশ কিছুদিন ধরেই তাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছিল। সেই অপপ্রচারে সফল না হয়েই শেষ পর্যন্ত তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এগুলো ফারুকীর নিজের দাবি ও অভিযোগ হিসেবেই জানা গেছে।
এই ঘটনার পর চার দিন তিনি ফেসবুকের বাইরে ছিলেন। এই সময়ে তার কাজের গতি বেড়ে যাওয়ার দাবিটি তাই আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একজন নির্মাতার কাছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম একদিকে নিজের কথা পৌঁছে দেওয়ার বড় মাধ্যম, অন্যদিকে প্রতিদিনের বিতর্ক আর প্রচারণার চাপের জায়গাও। ফারুকীর পোস্ট সেই দুই দিককেই একসঙ্গে তুলে ধরেছে। অ্যাকাউন্ট ফিরে পাওয়ার আনন্দের পাশাপাশি তিনি যেন জানিয়ে দিলেন, মাঝে মাঝে দূরে থাকাটাও জরুরি।
এখন দেখার বিষয়, অ্যাকাউন্ট ফিরে পাওয়ার পর ফারুকী আবার আগের মতো নিয়মিত পোস্টে ফিরবেন কি না, নাকি কাজের গতি ধরে রাখতে অনলাইনে সময় কমিয়ে দেবেন। তার পরের পোস্টগুলোই সেই প্রশ্নের উত্তর দেবে। তবে আপাতত এটা স্পষ্ট, চার দিনের বিরতির পর তিনি ফিরেছেন হালকা মেজাজে, আর ফেরার খবরটি নিজেই জানিয়েছেন নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে।
