পাকিস্তানি ড্রামার জগতে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় নাম 'দার-এ-নিজাত'। ARY Digital-এর এই ধারাবাহিক সম্প্রতি ১৬.৩ টিআরপি ছুঁয়েছে, যা ২০২৬ সালে কোনো পাকিস্তানি ড্রামার সর্বোচ্চ রেটিং হিসেবে আলোচিত হচ্ছে। শুধু টেলিভিশনেই নয়, ইউটিউবেও এর দাপট: সাপ্তাহিক ভিউ বৃদ্ধির হিসাবে এটি এখন এক নম্বরে, এক সপ্তাহে যোগ হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৭৭ লাখ নতুন ভিউ। বাংলাদেশের পাকিস্তানি ড্রামাপ্রেমীদের জন্য তাই এই লেখায় রইল গল্প, কাস্ট আর ফ্রিতে দেখার বৈধ উপায়।
গল্পের কৃতিত্বের বড় অংশ যায় লেখক উমেরা আহমেদের দিকে, যিনি পাকিস্তানি সাহিত্য ও টেলিভিশনের সবচেয়ে সম্মানিত নামগুলোর একটি। পরিচালনায় সাকিব খান, প্রযোজনায় বিগ ব্যাং এন্টারটেইনমেন্ট। কাহিনির কেন্দ্রে তিনটি চরিত্র: আবু বকর, যারিয়াব আর জামিল। ভালোবাসায় বাঁধা এক পরিবার, কিন্তু গোপন সত্য আর বিশ্বাসভঙ্গ সেই বন্ধনকে ছিন্নভিন্ন করে দেয়। বিশ্বাসের পরীক্ষা, ভাঙা আস্থা, প্রতিশোধের শিকড় আর মুক্তির খোঁজ, এই উপাদানগুলো মিলেই গড়ে উঠেছে গল্প। নির্মাতাদের নিজেদের ভাষায়, এখানে প্রতিটি সিদ্ধান্তের মূল্য দিতে হয় চরিত্রদের।
কাস্টিংয়েও শক্তিশালী নামের সারি। আবু বকরের চরিত্রে শাহরিয়ার মুনাওয়ার, যারিয়াবের চরিত্রে দুরে ফিশান সেলিম, জামিলের চরিত্রে নামির নওয়াজ খান। আরও রয়েছেন রোমায়সা খান (হামনা), সাহার হাশমি (বেলা), সানিয়া সাঈদ, সাবা হামিদ, নাদিয়া আফগান, মাহমুদ আসলাম ও ফারান তাহিরের মতো অভিজ্ঞ শিল্পীরা। শাহরিয়ারের আবু বকর চরিত্রের একটি কোরআন তিলাওয়াতের দৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসা কুড়িয়েছে, সহশিল্পী জারা নূর আব্বাসও সেই অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন প্রকাশ্যে।
সম্প্রচারের সূচি নির্দিষ্ট: প্রতি শুক্র ও শনিবার পাকিস্তানের সময় রাত ৮টায় ARY Digital-এ, অর্থাৎ বাংলাদেশের সময় রাত ৯টায়। ধারাবাহিকটি শুরু হয়েছিল চলতি বছরের ১ আগস্ট। সর্বশেষ ২৩ নম্বর পর্ব সম্প্রচার হয়েছে ১৭ অক্টোবর। সেই হিসাবে পরের পর্ব, অর্থাৎ ২৪ নম্বর পর্ব আসছে আগামীকাল শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর।
সবচেয়ে ভালো খবর হলো, এই ড্রামা বাংলাদেশ থেকে সম্পূর্ণ বৈধভাবে ফ্রিতেই দেখা যায়। ARY Digital-এর অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে প্রতিটি পর্ব আপলোড হয় ইংরেজি সাবটাইটেলসহ, ফলে উর্দুতে অসুবিধা থাকলেও গল্প বুঝতে সমস্যা হয় না। চ্যানেলটির প্লেলিস্টে প্রথম পর্ব থেকে সর্বশেষ পর্ব পর্যন্ত সাজানো আছে। এছাড়া রয়েছে ARY Plus অ্যাপ। টেলিগ্রাম বা অননুমোদিত সাইটের ঝামেলায় না গিয়ে অফিসিয়াল চ্যানেলেই দেখুন, তাতে নির্মাতারাও তাদের প্রাপ্য সম্মান পান।
গতিময় পারিবারিক গল্পের বাইরে যারা চিন্তাশীল, আবেগঘন পাকিস্তানি ড্রামা পছন্দ করেন, 'দার-এ-নিজাত' তাদের জন্য এই মৌসুমের সবচেয়ে শক্তিশালী সুপারিশ।
এর আগে পাকিস্তানি ড্রামার রেটিংয়ের শীর্ষে ছিল HUM TV-র 'জানজিরাইন', যেখানে অভিনয় করেছেন সাজাল আলি ও আহসান খান। 'দার-এ-নিজাত' সেই ধারাবাহিককে পেছনে ফেলে শীর্ষে উঠেছে, এমন দাবি এসেছে প্রচারণামূলক পোস্টার থেকেই। তুলনার এই লড়াই সোশ্যাল মিডিয়ায় দুই ড্রামার ভক্তদের মধ্যে আলাদা উত্তেজনা তৈরি করেছে।
বাংলাদেশি দর্শকদের কাছে পাকিস্তানি ড্রামার আকর্ষণের একটা বড় কারণ এর গতি। ভারতীয় মেগার মতো শত শত পর্বে না টেনে এই ড্রামাগুলো সাধারণত নির্দিষ্ট সংখ্যক পর্বে গল্প শেষ করে। 'দার-এ-নিজাত'ও সেই ধারার: প্রতি সপ্তাহে মাত্র দুটি পর্ব, কিন্তু প্রতিটিতেই গল্প এগিয়ে যায় পরিমাপ মতো। উমেরা আহমেদের সংলাপ আর চরিত্রদের নৈতিক দ্বন্দ্বই এই ধারাবাহিককে শুধু রেটিংয়ের নয়, আলোচনারও শীর্ষে রেখেছে।
