বাংলাদেশের সংস্কৃতি তুলে ধরতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছে ১৫ সদস্যের একটি সাংস্কৃতিক দল। সংগীতশিল্পী, নৃত্যশিল্পী, কণ্ঠশিল্পী ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত এই দলটি সফরকালে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেবে। সম্প্রতি সাংস্কৃতিক দলটি পাকিস্তানে পৌঁছায় বলে জানা গেছে।
দলটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন জনপ্রিয় সংগীত তারকা নাসির, পিয়াল হাসান ও গীতিকার-সংগীত পরিচালক ইথুন বাবু। আরও আছেন খ্যাতনামা চিত্রশিল্পী ও প্রিন্টমেকার মো. আবদুস সাত্তারসহ অনেকে। সফরে শিল্পীরা পাকিস্তান ন্যাশনাল কাউন্সিল অব দ্য আর্টস (পিএনসিএ) এবং লোক ভিরসায় পরিবেশনার মাধ্যমে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরবেন।
পাকিস্তান হাই কমিশন বাংলাদেশ সূত্রে জানা গেছে, দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদার এবং পারস্পরিক সাংস্কৃতিক বিনিময় বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ সফরের আয়োজন করা হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফের সিদ্ধান্তের আলোকে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
এই সফরের পেছনে রয়েছে একটি ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রক্রিয়া। গত বছর পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিনেটর ইসহাক দার বাংলাদেশ সফরকালে দুই দেশের মধ্যে একটি সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি স্বাক্ষরিত হয়। সেই কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক দলটির পাকিস্তান সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অর্থাৎ এটি কোনো আকস্মিক আয়োজন নয়, দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতারই বাস্তবায়ন।
সাংস্কৃতিক কূটনীতির এই উদ্যোগের তাৎপর্য কম নয়। রাষ্ট্রীয় সম্পর্কের বাইরে শিল্প-সংস্কৃতির বিনিময় দুই দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া গড়ে তোলে। বাংলাদেশের লোকসংগীত, নৃত্য আর চিত্রকলার যে সমৃদ্ধ ঐতিহ্য রয়েছে, তা আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার এমন সুযোগ শিল্পীদের জন্যও বড় প্রাপ্তি। পিএনসিএ ও লোক ভিরসার মতো প্রতিষ্ঠানে পরিবেশনা মানে পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কেন্দ্রেই বাংলাদেশের উপস্থিতি।
এই সফরে অংশ নেওয়া শিল্পীদের মধ্যে নাসির ও পিয়াল হাসান দেশের পরিচিত সংগীতমুখ, আর ইথুন বাবু গীতিকার ও সংগীত পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন। চিত্রশিল্পী আবদুস সাত্তারের উপস্থিতি ইঙ্গিত দেয় যে শুধু পরিবেশনাশিল্প নয়, দৃশ্যশিল্পও এই বিনিময়ের অংশ। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তি থেকে বোঝা যায়, সফরটি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত হচ্ছে।
সামনের দিনগুলোতে ইসলামাবাদে এই দলের পরিবেশনা ঘিরে দুই দেশের সাংস্কৃতিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিনিময় কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতে পাকিস্তানের শিল্পীদের বাংলাদেশ সফরেরও সম্ভাবনা রয়েছে, যা এই উদ্যোগকে একপেশে নয়, পারস্পরিক করে তুলবে।
পিএনসিএ ও লোক ভিরসা পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ দুটি প্রতিষ্ঠান। জাতীয় পর্যায়ের এই মঞ্চগুলোতে বাংলাদেশের শিল্পীদের পরিবেশনা মানে দুই দেশের সাংস্কৃতিক মহলের সরাসরি সংযোগ। লোকসংগীত, নৃত্য আর ঐতিহ্যবাহী পরিবেশনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সংস্কৃতির যে বহুমাত্রিক রূপ আছে, তা পাকিস্তানের দর্শকের সামনে তুলে ধরার সুযোগ পাবেন শিল্পীরা।
এ ধরনের বিনিময় সফরের আরেকটি দিক হলো শিল্পীদের পারস্পরিক শেখা। মঞ্চ ভাগ করে নেওয়া, কর্মশালা আর অনানুষ্ঠানিক আড্ডায় দুই দেশের শিল্পীরা একে অপরের ধারা, কৌশল আর ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারেন। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের সমঝোতা থেকে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত মানুষে মানুষে সেতু গড়ে তোলে, আর সেটিই সাংস্কৃতিক কূটনীতির আসল সাফল্য।
