শনিবার ভোরে রাজধানীর মগবাজারে সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনা শোবিজ অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। ভোর পৌনে পাঁচটার দিকে বিশাল সেন্টারের সামনে পার্ক করা গাড়িটিকে লক্ষ্য করে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় আসা এক অজ্ঞাত ব্যক্তি একটি গুলি ছোড়ে পালিয়ে যায়। গুলির সময় আসিফ আকবর গাড়িতে ছিলেন না, তিনি ছিলেন বিশাল সেন্টারের তৃতীয় তলায় নিজের কার্যালয়ে। তাই বড় কোনো অঘটন ঘটেনি, তবে ঘটনাটি ভক্ত ও সহশিল্পীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রথম সারির প্রতিক্রিয়াগুলোর একটি এসেছে চিত্রনায়ক ওমর সানীর কাছ থেকে। ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, 'গায়ক আসিফ আকবরের গাড়িতে গুলি করা একটা অশনি সংকেত। এটা হওয়া উচিত না, আসিফ তোমার দীর্ঘায়ু কামনা করছি, আল্লাহ ভালো রাখুন তোমাকে।' পোস্টের সঙ্গে তিনি আসিফ আকবরের ছবি ও গুলিতে ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ির ছবিও যুক্ত করেন।
ওমর সানীর এই প্রতিক্রিয়া আলাদা করে নজর কেড়েছে, কারণ দুজনের মধ্যে গেল বছরের ডিসেম্বরে কথার যুদ্ধ চলছিল। একে অন্যকে কটাক্ষ করে মন্তব্য করেছিলেন দুজনেই, যা তখন শোবিজে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। কিন্তু সহশিল্পীর ওপর হামলার খবর পেয়ে সেই বিবাদ সরিয়ে রেখে আসিফের পাশে দাঁড়িয়েছেন ওমর সানী। ভক্তদের অনেকেই এই আচরণকে প্রশংসা করে লিখেছেন, বিপদের সময় পুরোনো তিক্ততা ভুলে যাওয়াই শিল্পীসুলভ আচরণ।
এদিকে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন আসিফ আকবরের বড় ভাই। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ফজরের নামাজ পড়ে বাসায় ফেরার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইয়ের গাড়িতে গুলি চালানোর খবর দেখতে পান, এরপর অফিসে যাওয়ার পথে ঘটনাস্থলে আসেন। তাঁর ভাষায়, 'একটি স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক হিসেবে আমরা এমন ঘটনা আশা করতে পারি না। আমাদের সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব।' ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ ভালোভাবে যাচাই করলে হামলার সূত্র পাওয়া যেতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।
পুলিশের তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে খবর পেয়ে হাতিরঝিল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে গাড়ির পেছনের জানালা খুলে ভেতর থেকে একটি গুলির কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, কারা এই ঘটনায় জড়িত এবং কী উদ্দেশ্যে গুলি চালানো হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করছে পুলিশ। এনটিভির খবরে আরও জানানো হয়, গুলির সময় গাড়িতে না থাকায় অক্ষত আছেন আসিফ আকবর।
এর আগে গুলির ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছিলেন আসিফ আকবরের স্ত্রী সালমা আসিফ। স্বামী নিরাপদে থাকায় আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি লিখেছিলেন, আল্লাহ পাক হেফাজতের মালিক। সেই পোস্ট নিয়েও ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা হয়। সব মিলিয়ে একদিনের মধ্যে ঘটনাটি তিনটি আলাদা ঢেউ তুলেছে: প্রথমে হামলার খবর, তারপর পরিবারের প্রতিক্রিয়া, আর এখন সহশিল্পী ও বড় ভাইয়ের প্রকাশ্য অবস্থান।
এই ঘটনা কেন গুরুত্বপূর্ণ, তার কারণ শুধু একজন তারকার গাড়িতে গুলি নয়। একজন জনপ্রিয় শিল্পীর ওপর দিনের আলো ফোটার আগে হামলা হলে তা শিল্পী সমাজের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। সংগীত ও চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেকেই এখন বলছেন, দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হোক, যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়। এরপরের নজর থাকবে পুলিশের তদন্তের দিকে: সিসিটিভি ফুটেজে হামলাকারীকে শনাক্ত করা যায় কি না, আর হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে পুলিশ কী জানাতে পারে।
